সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলে সেচের পানির অভাবে অনেক আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানগাছ শুকিয়ে হলুদ হতে শুরু করায় চলতি মৌসুমে ফলন বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে এবার শ্যামনগরে ১৭ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ হয়েছে। এর অন্তত ২৫ শতাংশ জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, ঈশ্বরীপুর, রমজাননগর, নূরনগর ও কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছেন।
লবণাক্ততা আর সেচ সংকটে এ উপকূলের অনেক জমি বোরো মৌসুমে পতিত থাকে, তাই আমনই এখানকার কৃষকের প্রধান ভরসা। কুলতলী গ্রামের কৃষক তরুপশু সরদার বলেন, আমন মূলত বৃষ্টিনির্ভর, কিন্তু এবার এখনই খরা দেখা দিয়েছে; দীর্ঘ কৃষিজীবনে এই প্রথম আমনে তিনি পানির সংকটে পড়েছেন।
কৃষক সুনীল জোয়ারদার মনে করিয়ে দেন, কুশি গঠন, শিষ বের হওয়া আর দানা গঠনের সময় জমিতে পানি থাকা জরুরি; এসব পর্যায়ে ঘাটতি হলে ফলন মেলে না। ধানখালি গ্রামের অসিত কুমার জানান, শুষ্ক সময়ে মিঠাপানি কমে গেলে মাটি ও পানির লবণাক্ততা আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অলিউল ইসলাম বলেন, পানির সংকটে লবণাক্ততা ধানগাছের পানি ও পুষ্টি নেওয়ায় বাধা দেয়। এতে বৃদ্ধি কমে যায়, পাতার আগা শুকায়, গাছ দুর্বল হয়ে ফলন কমার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাঁর আশা, সামনে একটি নিম্নচাপ হলে বৃষ্টিতে কৃষকেরা কিছুটা রেহাই পেতে পারেন।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) শ্যামনগরের পানি সংকট নিয়ে এক গবেষণায় মাঠভিত্তিক বড় পুকুর বা জলাধার খনন এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সুপারিশ করেছে, যাতে প্রয়োজনের সময় সেই পানি দিয়ে সেচ দেওয়া যায়। উপকূলের কৃষির জন্য এটিই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলে মনে করছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদন: বাংলা নিউজ ২৪-এর ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট শেখ তানজির আহমেদ।
ছবি: বাংলাদেশের একটি ধানক্ষেত (প্রতীকী), Shahidul Hasan Roman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)