সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৩%বাতাস ১০ কিমি/ঘ

ইবনে কুদামার ‘আল-মুগনি’: তুলনামূলক ফিকহের যে বিশ্বকোষ আজও গবেষকের ভরসা

ষষ্ঠ হিজরি শতকের হাম্বলি ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি ধাপে ধাপে যে পাঠক্রম সাজিয়েছিলেন, তার চূড়া ‘আল-মুগনি’; চার মাজহাবসহ নানা আলেমের মত ও দলিল পাশাপাশি রেখে বিচার করায় গ্রন্থটি ইসলামি আইনশাস্ত্রের এক প্রামাণ্য ভান্ডার।

ইবনে কুদামার ‘আল-মুগনি’: তুলনামূলক ফিকহের যে বিশ্বকোষ আজও গবেষকের ভরসা
ইসলাম

ইসলামি আইনশাস্ত্রের ইতিহাসে হাম্বলি মাজহাবের ইমাম ইবনে কুদামা আল-মাকদিসির ‘আল-মুগনি’ তুলনামূলক ফিকহের অন্যতম প্রধান গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। প্রথম আলোর ইসলাম পাতায় মনযূরুল হকের এক লেখায় গ্রন্থটির জন্ম, গঠন ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইবনে কুদামার পুরো নাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি। ১১৪৬ খ্রিষ্টাব্দে (৫৪১ হিজরি) ফিলিস্তিনের নাবলুস এলাকার জাব্বাইন গ্রামে তাঁর জন্ম। দামেস্ক ও বাগদাদে সে সময়ের শীর্ষ আলেমদের কাছে তিনি পড়েছেন, যাঁদের একজন ছিলেন আবদুল কাদির জিলানি। ফিকহ, হাদিস, উসুল ও জুহদের সমন্বয় ছিল তাঁর জ্ঞানচর্চার বৈশিষ্ট্য।

লেখাটির ভাষ্য, ইবনে কুদামার বইগুলো সাজানো একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রমের মতো। শুরুর স্তরে ‘উমদাতুল ফিকহ’, যেখানে মতভেদ বা দীর্ঘ দলিল ছাড়া শুধু মাজহাবের নির্ভরযোগ্য একটি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। মধ্যবর্তী স্তরে ‘আল-মুকনি’, যা মাজহাবের ভেতরের একাধিক মত চেনায়। এরপর ‘আল-কাফি’, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনের কোরআন, হাদিস ও সাহাবিদের বক্তব্যের দলিল আর যুক্তি শেখানো হয়। এই তিন ধাপ পেরিয়ে শিক্ষার্থী পৌঁছান ‘আল-মুগনি’তে।

‘আল-মুগনি’ মূলত চতুর্থ হিজরি শতকের হাম্বলি ফকিহ আবুল কাসিম ওমর ইবনুল হুসাইন আল-খিরাকির (মৃত্যু ৩৩৪ হিজরি) সংক্ষিপ্ত পাঠ ‘মুখতাসারুল খিরাকি’র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যেখানে প্রায় ২,৩০০টি ফিকহি মাসআলা সাজানো ছিল। ‘মুগনি’ শব্দের অর্থ ‘স্বয়ংসম্পূর্ণকারী’; লেখকের ভাষায়, গ্রন্থটি এতটাই পূর্ণাঙ্গ যে এটি পড়ার পর গবেষককে অন্য অনেক বইয়ের মুখাপেক্ষী হতে হয় না।

গ্রন্থটির প্রধান বৈশিষ্ট্য তুলনামূলক বিচার। ইবনে কুদামা হাম্বলি মাজহাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ি ও সুফিয়ান আস-সাওরিসহ নানা মুজতাহিদের মত ও দলিল বিশ্বস্তভাবে তুলে ধরেছেন, তারপর নিজের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এমনকি তা হাম্বলি অবস্থানের বাইরে গেলেও। শাফেয়ি মাজহাবের আলেম ইজ্জুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম বলতেন, ‘আল-মুগনি’র একটি কপি হাতে না আসা পর্যন্ত ফতোয়া দিতে তাঁর মন সায় দিত না।

লেখায় অন্য মাজহাবের বড় গ্রন্থগুলোর সঙ্গেও তুলনা টানা হয়েছে: হানাফি মাজহাবে আলাউদ্দিন আল-কাসানির ‘বাদাইউস সানাই’, মালেকি মাজহাবে ইবনে আবদিল বারের ‘আল-ইস্তিজকার’, শাফেয়ি মাজহাবে ইমাম নববির ‘আল-মাজমু’ এবং জাহিরি মাজহাবে ইবনে হাজমের ‘আল-মুহাল্লা’। লেখকের মতে, কাসানির চেয়ে ইবনে কুদামার তুলনার পরিধি বিস্তৃত, নববি হাদিসের সনদ বিচারে বেশি মনোযোগী, আর ইবনে হাজমের তীক্ষ্ণ বিতর্কের বিপরীতে ইবনে কুদামা কিয়াস স্বীকার করে ভিন্নমতের প্রতি বিনয় বজায় রেখেছেন।

লেখকের উপসংহার, ‘আল-মুগনি’ শুধু হাম্বলি মাজহাবের সম্পদ নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর গবেষণার ধারক; একটি মাজহাবের পাঠ থেকে তুলনামূলক আইনশাস্ত্রে পৌঁছানোর যে পথ ইবনে কুদামা দেখিয়েছেন, তা পরের সব যুগের ফিকহ গবেষকের জন্য দিশারি।

ছবি: أبو تائب / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); ‘আল-মুগনি’র খণ্ডগুলো

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

ইসলাম

সম্পর্কিত খবর

ইসলাম

অনুমতি ছাড়া অন্যের দেয়ালে পোস্টার: ইসলাম যা বলে

বৈধ পণ্য, সেবা বা অনুষ্ঠানের প্রচারে পোস্টার ব্যবহার জায়েজ, কিন্তু মালিক বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অন্যের দেয়াল, দোকান, গাড়ি বা জনপরিসরে পোস্টার লাগানো ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ।

বার্তা২৪১৯ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ইসলাম

শৈশবের আকাশের স্বপ্ন থেকে লাইসেন্স: জ্যামাইকার প্রথম মুসলিম নারী পাইলট হাসানাহ আল-সাবা

২০২২ সালের ২৯ আগস্ট পাইলটের লাইসেন্স পেয়ে জ্যামাইকার প্রথম মুসলিম নারী পাইলট হয়েছেন হাসানাহ আল-সাবা; এখন তাঁর লক্ষ্য বাণিজ্যিক পাইলটের প্রশিক্ষণ শেষ করে কোনো এয়ারলাইনসে কাজ করা।

বার্তা২৪১৯ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ইসলাম

কোন বয়স থেকে আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়: বালেগ হওয়া নিয়ে ইসলামের বিধান

ইসলামি শরিয়তে বালেগ হওয়ার পর থেকেই মানুষ বিধান পালনে দায়বদ্ধ; আলামত দেখা দিলে বয়সের অপেক্ষা নেই, আর আলামত না দেখা দিলে হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মতে ছেলে-মেয়ে উভয়ে ১৫ চান্দ্র বছরে বালেগ গণ্য হয়।

আওয়ার ইসলাম১৯ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)