জ্যামাইকার প্রথম মুসলিম নারী পাইলট হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন হাসানাহ আল-সাবা। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট তিনি ফ্লাইট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, আর চার দিন পর ২৯ আগস্ট পান পাইলটের লাইসেন্স। অ্যাবাউট ইসলামের এক প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা২৪.কমের ইসলাম ডেস্ক তাঁর গল্প তুলে ধরেছে।
হাসানাহর এই অর্জন দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি বলেন, ‘টেলিভিশনে ও পত্রিকায় নিজেকে দেখে বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে, সেটা আমি।’ ধীরে ধীরে অর্জনের গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেন তিনি; তাঁর আশা, এই সাফল্য অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে এবং জ্যামাইকার জাতীয় মূলমন্ত্র ‘অনেকের মধ্যে এক জাতি’র চেতনাকে তুলে ধরবে। ‘আমি একজন গর্বিত জ্যামাইকান। আমি আমার দেশের মানুষকে দেখাতে চাই, স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব,’ বলেন তিনি।
আকাশে ওড়ার স্বপ্নের শুরু শৈশবে। দাদা-দাদির সঙ্গে দেখা করতে ত্রিনিদাদে যাওয়ার পথে উড়োজাহাজে ভ্রমণ তাঁকে মুগ্ধ করত; ওপর থেকে বিস্তৃত প্রকৃতি দেখার অভিজ্ঞতাও তাঁকে টানত। হাসানাহর ভাষায়, ওড়া তাঁকে একধরনের স্বাধীনতার অনুভূতি দেয়, যেন মাটিতে ফেলে আসা দুশ্চিন্তা থেকে কিছুক্ষণ দূরে থাকা যায়।
লাইসেন্স পাওয়াই তাঁর শেষ লক্ষ্য নয়। এখন তিনি বাণিজ্যিক পাইলটের প্রশিক্ষণ শেষ করে কোনো এয়ারলাইনসে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জ্যামাইকা প্রধানত খ্রিস্টানপ্রধান দেশ, সেখানে মুসলিমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘু। ভিজিট জ্যামাইকার তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে আনুমানিক ছয় হাজার মানুষ ইসলামের অনুসারী, আর দ্বীপটিতে মসজিদ আছে ১২টির মতো। তবে সেখানে ইসলামের ইতিহাস দীর্ঘ: আফ্রিকা থেকে দাস হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আমেরিকায় আনা মানুষের মধ্যে মুসলিমরাও ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে হাসানাহর অর্জন দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্যের।
ছবি: Matthew Piatt / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0); প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের ককপিট, প্রতীকী ছবি
সূত্র: বার্তা২৪




মন্তব্য
(০)