শরিয়তের বিধান পালনের দায়িত্ব শুরু হয় বালেগ হওয়ার পর থেকে: নামাজ, রোজাসহ ফরজ ইবাদত যেমন তখন থেকে বাধ্যতামূলক, তেমনি শরিয়তবিরোধী কাজের দায়ও তখন থেকে বর্তায়। তাই অনেকের প্রশ্ন, কত বছর বয়স থেকে আমলনামায় গুনাহ লেখা হয়? আওয়ার ইসলামের এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ইসলামি শরিয়তে এখানে শুধু বয়স নয়, বালেগ হওয়ার নির্দিষ্ট আলামতও গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনের সূরা নুরের ৫৯ নম্বর আয়াতে সন্তানেরা বয়ঃপ্রাপ্ত হলে অনুমতি নিয়ে প্রবেশের বিধান এসেছে, অর্থাৎ বয়ঃপ্রাপ্তির পর আলাদা বিধান। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিন শ্রেণির মানুষের আমল লেখার কলম তুলে রাখা হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি জেগে ওঠা পর্যন্ত, শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সুস্থ হওয়া পর্যন্ত (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৪৪০৩; সংস্করণভেদে নম্বর ভিন্ন হতে পারে)।
এ থেকে বোঝা যায়, বালেগ হওয়ার আগে শিশু প্রাপ্তবয়স্কের মতো দায়বদ্ধ নয়; বালেগ হওয়ার পর জেনে-বুঝে গুনাহ করলে তার দায় তাকেই বহন করতে হয়।
ফিকহের বিধানে বালেগ হওয়ার শারীরিক আলামত দেখা দিলে, ছেলে বা মেয়ে যে-ই হোক, নির্ধারিত বয়সের অপেক্ষা না করেই তাকে বালেগ গণ্য করা হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া এর প্রধান আলামত।
আলামত দেখা না দিলে বয়সের ভিত্তিতে বিধান কার্যকর হয়। হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, ছেলে-মেয়ে উভয়ের বয়স ১৫ চান্দ্র বছর পূর্ণ হলে তারা বালেগ। এর ভিত্তি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণনা: উহুদ যুদ্ধের সময় ১৪ বছর বয়সে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেননি, খন্দকের সময় ১৫ বছরে অনুমতি দেন। বর্ণনাটি শুনে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) বলেছিলেন, এটাই ছোট ও বড়র সীমারেখা (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৬৬৪, ৪০৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮৬৮)।
বালেগ হওয়ার আগে দায়বদ্ধতা না থাকলেও ছোটবেলা থেকেই নামাজ, রোজা, শিষ্টাচার ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব, যাতে বালেগ হওয়ার পর সন্তান শরিয়তের বিধান ঠিকভাবে পালন করতে পারে।
সূত্র: আওয়ার ইসলাম




মন্তব্য
(০)