স্পেনের গ্রানাডা শহরের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আলহামরা প্রাসাদ ও দুর্গ একসময় ছিল মুসলিম শাসকদের ক্ষমতা ও রাজকীয় জীবনের কেন্দ্র। এর দেয়াল, খিলান ও প্রাঙ্গণে আজও ফুটে আছে মধ্যযুগীয় মুসলিম স্পেনের শিল্প ও স্থাপত্যের ইতিহাস। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র ও গ্রানাডা নগরীর পর্যটন বিভাগের তথ্য ধরে বাংলাভিশন তুলে ধরেছে আলহামরার কথা।
বর্তমান প্রাসাদ কমপ্লেক্সের প্রধান বিকাশ ঘটে ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে। ১২৩৮ সালে নাসরি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন নাসর, যিনি আল-আহমার নামেও পরিচিত, গ্রানাডায় শাসনকেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নেন। পরে ইউসুফ প্রথম ও মুহাম্মদ পঞ্চমের সময়ে যুক্ত হয় সূক্ষ্ম কারুকাজ, অলংকৃত কক্ষ, জলাধার ও প্রাঙ্গণ।
আলহামরার দেয়ালজুড়ে জ্যামিতিক নকশা, লতাপাতার অলংকরণ আর আরবি ক্যালিগ্রাফি। প্লাস্টার, কাঠ ও সিরামিকের ব্যবহার একে ইসলামি শিল্পকলার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন করে তুলেছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। সবচেয়ে পরিচিত অংশ লায়নস কোর্ট বা সিংহের প্রাঙ্গণ: চতুর্দশ শতকে মুহাম্মদ পঞ্চমের সময়ে তৈরি, কেন্দ্রে বারোটি সিংহের ভাস্কর্য ঘিরে একটি ফোয়ারা। কমারেস প্রাসাদ ও মির্টলস কোর্টও এর গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
আলহামরার সৌন্দর্যের বড় অংশ পানি, ফোয়ারা, জলাধার আর বাগান। প্রাঙ্গণে প্রাঙ্গণে পানির প্রবাহ পরিবেশ শীতল রাখে। পূর্ব দিকের জেনারালাইফ ছিল মুসলিম শাসকদের অবকাশের জায়গা, যার বাগান ও জলধারা মধ্যযুগীয় আন্দালুসীয় উদ্যানশিল্পের পরিচয় বহন করে। ইউনেস্কোর মূল্যায়নে পানি ও উদ্ভিদের এই নান্দনিক ব্যবহার স্থাপত্য আর প্রকৃতির মধ্যে এক অনন্য সম্পর্ক তৈরি করেছে।
১৪৯২ সালে ক্যাথলিক রাজা-রানি ফার্দিনান্দ ও ইসাবেলার বাহিনীর কাছে গ্রানাডার পতনে স্পেনে মুসলিম শাসনের শেষ অধ্যায় রচিত হয়। এরপর আলহামরার ব্যবহারে পরিবর্তন আসে; ষোড়শ শতকে সম্রাট পঞ্চম চার্লসের প্রাসাদ নির্মাণে যুক্ত হয় নতুন স্থাপত্যধারা। তবু গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম স্থাপনাগুলো সংরক্ষিত রয়েছে।
আলহামরা, জেনারালাইফ ও গ্রানাডার আলবাইসিন এলাকা ১৯৮৪ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে; ১৯৯৪ সালে ঐতিহ্য এলাকা সম্প্রসারিত হয়। আজ এটি স্পেনের সবচেয়ে পরিচিত ঐতিহাসিক স্থানগুলোর একটি, আর মুসলিম সভ্যতার স্থাপত্য ও শিল্পকলা জানতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
ছবি: Tuxyso / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); আলহামরার সিংহের প্রাঙ্গণ
সূত্র: বাংলাভিশন




মন্তব্য
(০)