ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। দেশ রূপান্তরে হাসান আল মামুন লিখেছেন, অপরাধী ধনী হোক বা গরিব, সামাজিক মর্যাদা বা ক্ষমতার কারণে বিচারের ধরন বদলানোর সুযোগ নেই; অথচ প্রায়ই দেখা যায় অর্থ ও প্রভাবের জোরে ধনীরা পার পেয়ে যান, আর দরিদ্ররা লঘু অপরাধেও কঠোর শাস্তি পান।
লেখক সুরা নিসার ১৩৫ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে মুমিনদের ন্যায়ের ওপর দৃঢ় থাকতে এবং নিজের, বাবা-মা বা আত্মীয়ের বিরুদ্ধে গেলেও আল্লাহর জন্য ন্যায্য সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে, ধনী হোক বা গরিব। তাঁর ব্যাখ্যা, কেউ ধনী বলে অন্যায়ের দায় থেকে মুক্তি পাবেন না, আবার গরিব বলে অযথা কঠোরতাও অন্যায়; বিচার হবে সত্য, প্রমাণ ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে।
সুরা মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে; ন্যায়বিচারই তাকওয়ার বেশি নিকটবর্তী। লেখকের মতে, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, সম্পর্ক বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে বিচারে পক্ষপাত চলবে না।
বিচারে বৈষম্যের সামাজিক ক্ষতির কথাও বলেছেন তিনি: প্রভাবশালীরা পার পেলে অপরাধপ্রবণতা বাড়ে, আর দরিদ্র মানুষ বঞ্চিত হলে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আস্থা কমে। তাই বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবমুক্ত রাখা, দুর্নীতি রোধ এবং দরিদ্রদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
লেখকের উপসংহার, প্রভাবশালীর অন্যায় সমর্থন করা যাবে না, আবার দুর্বলতার সুযোগে নিরপরাধকে শাস্তি দেওয়াও অন্যায়; ধনী-গরিব সবার অধিকার রক্ষাই ইসলামের আদর্শ।
ছবি: Pearson Scott Foresman / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)