নামাজকে মুমিনের চোখের শীতলতা ও জান্নাতের চাবি বলা হয়েছে (জামে তিরমিজি: ৪)। আলেমরা বলেন, নামাজের বরকত নষ্ট করার প্রধান উপায় হলো ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ, যা শুরু হয় অজুর সময় থেকেই। বার্তা২৪-এর ইসলাম ডেস্ক হাদিসের আলোকে এর প্রতিকারগুলো তুলে ধরেছে।
অজু ভেঙেছে কি না, এমন সন্দেহ যাঁদের বেশি হয়, তাঁদের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিতে বলা হয়েছে। সহিহ বোখারির (১৩৭) হাদিসে আছে, নামাজে কিছু হয়েছে বলে মনে হওয়া ব্যক্তি সম্পর্কে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, শব্দ না শোনা বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত সে যেন নামাজ ছেড়ে না যায়।
রুকু বা সিজদা একটা হলো না দুটো, এমন দ্বিধার কথা হজরত উসমান ইবনে আবুল আস (রা.) নবীজিকে জানালে তিনি একে ‘খিনযাব’ নামের শয়তানের কাজ বলেন এবং তখন আউজুবিল্লাহ পড়ে বাঁ দিকে তিনবার থুথু ফেলার নির্দেশ দেন (সহিহ মুসলিম)।
রাকাতের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে, যেমন তিন না চার, যে সংখ্যায় নিশ্চিত (তিন) সেটি ধরে বাকি নামাজ শেষ করতে এবং সালামের আগে দুটি সিজদা করতে বলা হয়েছে (সহিহ মুসলিম)। এতে পাঁচ রাকাত হয়ে গেলে নামাজ জোড় পূর্ণ হয়, আর চার হলে সিজদা দুটি শয়তানের জন্য অপমানস্বরূপ হয়।
তাড়াহুড়া করে নামাজ পড়া এবং অকারণে এদিক-ওদিক তাকানোকেও নিষেধ করা হয়েছে; নবীজি এদিক-ওদিক তাকানোকে শয়তানের ছিনতাই বলেছেন (সহিহ বোখারি: ৭৫১)। কোরআনে সফল মুমিনদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে যাঁরা নামাজে বিনয়ী (সুরা মুমিনুন: ১-২)। অন্যদিকে নিজের ওপর অতিরিক্ত কড়াকড়ি করে বারবার একই হরফ পড়াও ইবাদতের আনন্দ কেড়ে নেয়।
লেখায় একটি জরুরি পরামর্শও আছে: সন্দেহের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে, কারণ অনেকে মানসিক রোগে ভোগেন অথচ তা জানেন না।
ছবি: Azim Khan Ronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)