জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) রোম সদর দপ্তরে ১৩ অক্টোবর শুরু হয়েছে হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড বিনিয়োগ ফোরাম ২০২৬। এতে ৩৮টি দেশ ও পাঁচটি আঞ্চলিক উদ্যোগ মোট ২০.১৬ বিলিয়ন ডলারের (২,০১৬ কোটি ডলার) কৃষি-খাদ্য বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলে ধরছে, যা ফোরামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছর সরকারগুলো ১৭.৩ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছিল।
চার দিনের এই আয়োজন বিশ্ব খাদ্য ফোরামের অংশ। সরকারি প্রতিনিধি, বেসরকারি কোম্পানি, উন্নয়ন ব্যাংক ও ফাউন্ডেশনগুলো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অর্থায়নের পথ, বিনিয়োগের ঝুঁকি ও অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবে। এফএও জানিয়েছে, প্রস্তাবগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি; এতে প্রধান খাদ্যশস্য, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য এবং কফি ও কোকোর মতো উচ্চমূল্যের পণ্য রয়েছে, আর সম্ভাব্য উপকারভোগী ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ।
এফএওর মহাপরিচালক কু দংইউ বলেন, সহনশীলতা গড়তে কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় টানা বিনিয়োগ দরকার, কিন্তু উচ্চ ঝুঁকির কারণে অনেক সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বিনিয়োগকারীরা প্রায়ই প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা পান না; হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড উদ্যোগ এসব বিনিয়োগের নকশা, ঝুঁকি কমানো ও অর্থায়নের ধরন বদলে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই মডেলে কাজ ভাগ হয় চার পক্ষে: সরকার জাতীয় অগ্রাধিকার ঠিক করে, এফএও তথ্য ও কারিগরি বিশ্লেষণ দেয়, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুর দিকের লোকসানের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে, আর বেসরকারি বিনিয়োগকারী পুঁজি আনে। কোন এলাকা ও কোন মূল্যশৃঙ্খলে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি কাজে আসবে, তা বাছাইয়ে এফএও ভূ-স্থানিক তথ্য, অর্থনৈতিক মডেল এবং জলবায়ু ঝুঁকি, মাটির স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, বাজারে প্রবেশ ও দারিদ্র্যের তথ্য ব্যবহার করে।
এবারের প্রস্তাবের মধ্যে আছে নেপালের ইয়াকের দুধের পনির, টোঙ্গার কাভা, শ্রীলঙ্কার দারুচিনি, কিউবার মধু রপ্তানি, হাইতির কোকো, মাদাগাস্কারের লাল মাংস ও অ্যাঙ্গোলার অ্যাভোকাডো। ঘানা কাসাভা ও সয়াবিন উৎপাদন, পোলট্রি এবং সয়াবিন ও চাল প্রক্রিয়াজাতকরণে ১.২ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে; দেশটির হিসাবে এতে আড়াই লাখ কর্মসংস্থান হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। ফিলিপাইন কফি, সামুদ্রিক শৈবাল, আম, কাঁঠাল ও কোকোর জন্য ৫ কোটি ৭৪ লাখ ডলার চাইছে, আর কলম্বিয়া বোয়াকায় (Boyacá) ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য একটি কৃষি-শিল্প ও লজিস্টিক কেন্দ্র এবং কর্দোবায় (Córdoba) টেকসই পশুপালনের জন্য ৭ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের প্রস্তাব এনেছে।
২০২২ সাল থেকে এ উদ্যোগের আওতায় দেশগুলো ৪৭.২৬ বিলিয়ন ডলারের ৩৮৭টি বিনিয়োগ প্রস্তাব তৈরি করেছে, যার মধ্যে ৭.৮৮ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুত হয়েছে বা আলোচনায় আছে; অংশ নিচ্ছে ৮৭টি দেশ। উদাহরণ হিসেবে এফএও ইকুয়েডরের কথা বলছে, যেখানে ২০২২ সাল থেকে ৩০ কোটি ডলারের বেশি জোগাড় হয়েছে, আর নেপালে প্রতিশ্রুত হয়েছে ৩০ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আলোচনায় আছে আরও ১৬ কোটি ডলার।
আঞ্চলিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে আমাজোনিয়া, প্রশান্ত মহাসাগর ও আফ্রিকার ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, ড্রাই করিডর ও শুষ্ক অঞ্চল এবং আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল; বিষয়ের তালিকায় বনজ পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ, নীল অর্থনীতি, জৈব নিরাপত্তা, বালাই ব্যবস্থাপনা, সেচ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ। আলাদা অধিবেশনে প্রাণিসম্পদ, কফি ও কোকোর মূল্যশৃঙ্খল, মধ্য এশিয়ার শস্যভান্ডার উদ্যোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম

মন্তব্য
(০)