খেলাধুলা বা ব্যায়ামের সময় হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের খবর মানুষকে ভাবায়: ব্যায়াম কি হৃদ্যন্ত্রের জন্য ঝুঁকির? প্রথম আলোয় জাকারিয়া সুমনের প্রতিবেদন বলছে, ঝুঁকি নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরন, তীব্রতা আর শরীর কতটা প্রস্তুত তার ওপর।
ব্যায়াম শুরু করলে পেশির অক্সিজেনের চাহিদা বাড়ে, হৃদ্যন্ত্রকে দ্রুত ও বেশি রক্ত পাম্প করতে হয়, বাড়ে হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ। সুস্থ শরীর এ চাপ সামলাতে পারে। কিন্তু আগে থেকেই প্লাক জমে করোনারি ধমনি সরু থাকলে হঠাৎ তীব্র পরিশ্রমে প্লাক ফেটে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, আর তাতে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এক হাজার দুই শর বেশি হার্ট অ্যাটাকের রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত হওয়ার আগের এক ঘণ্টায় ভারী পরিশ্রম করলে ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। তবে যাঁরা নিয়মিত ভারী পরিশ্রমে অভ্যস্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বাড়তি ঝুঁকি অনেক কম ছিল।
অর্থাৎ বিপদ বেশি তাঁদের, যাঁরা দীর্ঘদিন অলস থেকে হঠাৎ জোরে দৌড়, ভারী ওজন তোলা, প্রস্তুতি ছাড়া ফুটবল ম্যাচ, লম্বা দৌড়, পাহাড়ে ওঠা বা দ্রুত সাইক্লিং শুরু করেন। ব্যায়াম অভ্যাস না থাকা কেউ এক দিন খুব ভারী শারীরিক কাজ করলেও একই চাপ পড়তে পারে।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের কম মাত্রার ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও তীব্রতা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে, কিংবা মধ্যবয়সের পর অনেক দিন ব্যায়াম না করে কঠিন ব্যায়াম শুরু করতে চাইলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ব্যায়ামের আগে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা সহজ নড়াচড়ায় শরীর গরম করে নিয়ে তারপর মাত্রা বাড়ানো নিরাপদ। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে পাবমেড, নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন, হার্ট ডট ওআরজি ও রয়টার্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবি: পার্কের জগিং ট্র্যাক (ফাইল ছবি), Mk2010 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)