কয়েকটি আবহাওয়া সংস্থা যাকে এখনই রেকর্ড সবচেয়ে শক্তিশালী বলছে, এবারের সেই এল নিনো কয়েকটি মহাদেশে গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি করছে। ইউরোনিউজের এক সংকলন প্রতিবেদনে এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ এল নিনো চূড়ায় পৌঁছাবে বলে ধারণা।
মেক্সিকো থেকে পানামা পর্যন্ত বিস্তৃত মধ্য আমেরিকার শুষ্ক করিডরে খরায় পশুর পাল ধুঁকছে। এল সালভাদরে আগস্টে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। সেনসুনতেপেকের পশুর হাটে ৫৪ বছরের খামারি আন্তোনিও আগিলার হাড্ডিসার একটি গরু দেখিয়ে বলেন, ঘাস নেই বলেই প্রাণীটির এই দশা।
এল নিনোজনিত তীব্র খরা সুদানের অর্ধেকের বেশি এলাকাজুড়ে, যেখানে সংঘাত আগে থেকেই দুর্ভিক্ষ ডেকে আনছে; স্থানীয়ভাবে ফসল নষ্ট হচ্ছে, পরিবারগুলোর খাবার ও আয় কমছে। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করেছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি আর আগামী বছরের শুরুতে দীর্ঘ খরার পূর্বাভাস দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নষ্ট করতে পারে। নেদারল্যান্ডসের আইএইচই ডেলফট পানি শিক্ষা ইনস্টিটিউট বলছে, ভুট্টা ও শিমের মতো প্রধান খাদ্যের আমদানি ব্যাহত হলে ইউরোপের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অন্য অঞ্চলে বিপদ পানি। ১৫ অক্টোবর আর্জেন্টিনার উত্তর-পূর্বে পারানা নদীর পানি ৪.৭ মিটারে উঠলে মানুষ সরিয়ে নিতে হয়; প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে বন্যায় হাজারো মানুষ ঘরছাড়া, আর ইগুয়াজু নদীতে স্বাভাবিকের ছয় গুণ পানি বয়ে যাওয়ায় জলপ্রপাতের পর্যটন পথ বন্ধ রাখা হয়। জাতিসংঘের প্রকৃতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ডেভিড ওবুরা বলেছেন, প্রবাল প্রাচীরের জন্য এটি ভয়াবহ বাড়তি ঝুঁকি; গ্রীষ্মমণ্ডলজুড়ে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিক গরম হলে, মোটামুটি দুই থেকে সাত বছর পরপর, এল নিনো হয়; সাধারণত মানুষের সৃষ্ট উষ্ণায়নের ওপর বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা আরও প্রায় ০.২ ডিগ্রি বাড়ায়। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এবারেরটিকে নজিরবিহীন, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সবচেয়ে শক্তিশালী বলছে; যুক্তরাষ্ট্রের নোয়া বলছে, এটি সম্ভবত তাদের রেকর্ডের সবচেয়ে শক্তিশালী ১৯৮২ সালকেও ছাড়াবে। জাতিসংঘের উন্নয়নপ্রধান আলেকজান্ডার দে ক্রো সতর্ক করেছেন, এল নিনো, জ্বালানির উচ্চমূল্য আর সুদের হার মিলে লাখো মানুষকে দারিদ্র্যে ঠেলে দিতে পারে। প্রতিবেদনটি অ্যাঞ্জেলা সাইমন্সের, এএফপি ও এপির তথ্যসহ।
ছবি: Al Jazeera English / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)