ক্রিস্টোফার কলম্বাসের পশ্চিমযাত্রার পর ৫০০ বছরে পৃথিবীতে জীবের বিস্তার আগের যেকোনো যুগের চেয়ে দ্রুত ও অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে গেছে, মঙ্গাবে ইন্ডিয়ায় এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এমন যুক্তি দিয়েছেন চেন্নাইভিত্তিক কেয়ার আর্থ ট্রাস্টের পরিবেশবিজ্ঞানী আর জে রঞ্জিত ড্যানিয়েলস। মতামতগুলো লেখকের নিজের।
ড্যানিয়েলস পৃথিবীর ইতিহাসকে পাঁচটি জীবভৌগোলিক যুগে ভাগ করেছেন: প্রাণের উৎপত্তি থেকে প্রায় ৪০ কোটি বছর আগ পর্যন্ত; চতুষ্পদ প্রাণী ও মহাদেশীয় সরণের যুগ; ডাইনোসর বিলুপ্তির পর মানুষের পূর্বপুরুষের আবির্ভাবের যুগ; প্রায় ১২ হাজার বছর আগে কৃষির সূচনা থেকে ষোড়শ শতক; আর কলম্বাস-পরবর্তী যুগ। তাঁর মতে শেষটিই সবচেয়ে ছোট, সবচেয়ে ক্ষতিকরও।
কলম্বাসের অনেক আগেই মানুষ বীজ, প্রাণী আর রোগজীবাণু বয়ে বেড়িয়েছে: ক্যাপ্টেন জেমস কুকের অনেক আগে ডিঙ্গো কুকুর অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল, পলিনেশীয়রা বনমোরগ আর এশীয় গাছপালা নিয়ে গিয়েছিল হাওয়াইয়ে। মসলা, হাতির দাঁত, জীবন্ত প্রাণী আর কৃষিপণ্যের সমুদ্র বাণিজ্য এই আদান-প্রদান বাড়িয়েছে। ড্যানিয়েলসের যুক্তি, ১৪৯২ সালের পর হাজারো আমদানি করা উদ্ভিদ ও প্রাণী আগ্রাসী হয়ে উঠেছে, গুটিবসন্ত, কলেরা ও প্লেগের মতো রোগ আদিবাসী জনগোষ্ঠী ধ্বংস করেছে, আর বাইরে থেকে আসা উদ্ভিদ রোগজীবাণু ফসল নষ্ট করে দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছে।
মানুষকেন্দ্রিক ভূমি ব্যবহারকে তিনি বিশেষভাবে দায়ী করেছেন: বহুফসলি চাষ ও ফসলচক্র, পালাক্রমে গাছ কাটা, বিদেশি গাছের একক বাগান, পশুখামার, সেচব্যবস্থা আর মাছচাষ। আলাদাভাবে নিরীহ মনে হলেও শহর, শিল্প আর অবকাঠামোর সঙ্গে মিলে এগুলো জীববৈচিত্র্য কমিয়েছে, তৈরি করেছে মানুষনির্ভর নতুন বাস্তুতন্ত্র, যেখানে সব পরিবেশে টিকে থাকা প্রজাতি আর বুনো হয়ে যাওয়া গৃহপালিত প্রাণী বাড়ছে, বাড়ছে মানুষ-প্রাণী সংঘাত।
বৈশ্বিক সম্মেলনগুলো টেকসই ভূমি ব্যবহারের আঞ্চলিক ও জাতীয় বিকল্প মডেলের চেয়ে আর্থিক সহায়তা নিয়েই বেশি দর-কষাকষি করে বলে সমালোচনা করেছেন ড্যানিয়েলস; তাঁর মতে কলম্বাস-পূর্ব জীবমণ্ডল ফেরাতে কনভেনশনের চেয়ে অনেক বেশি কিছু লাগবে।
ছবি: Soumyajit Nandy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)