পেরুর রাজধানী লিমায় এবার অস্বাভাবিক গরম শীতেও নতুন জৈব সমৃদ্ধ, রোগ প্রতিরোধী আলুর জাত ফলিয়েছে আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র (সিআইপি)। পদ্ধতি হলো চাষ না করা মাটিতে ধানের খড় বিছিয়ে (মালচিং) সরাসরি আলু লাগানো, যে কৌশল প্রতিষ্ঠানটির গবেষকেরা ভারতে কৃষকদের সঙ্গে অংশগ্রহণমূলক গবেষণায় তৈরি করেছিলেন।
পেরুর আবহাওয়া দপ্তর সেনামহির তথ্যে, লিমার কাম্পো দে মার্তে কেন্দ্রে শীতের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে, এবার উঠেছে ২৮ ডিগ্রিতে; শহরের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১০.১ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি তাপ ছিল, জলবায়ু পরিবর্তনে তীব্র হওয়া এল নিনোর কারণে। আলুর দরকার ঠান্ডা আবহাওয়া; গরমে বৃদ্ধি থমকে যায়, পোকা ও রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
নতুন জাতগুলোতে আয়রন, জিংক ও ভিটামিন সি বেশি; ভিটামিন সি শরীরকে আয়রন ও জিংক শোষণে সাহায্য করে। পেরুর নারী ও শিশুদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা এখনো বড় সমস্যা। জাতগুলো ভাজা ও বেক করার শিল্পের উপযোগী, তাই চাষির বাজার বাড়ে; লেট ব্লাইট প্রতিরোধী হওয়ায় বালাইনাশকও কম লাগে। সিআইপির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী গাব্রিয়েলা বুরগোস বলেন, এগুলো সিআইপির সেরা উদ্ভাবনগুলোর একটি।
সিআইপি বলছে, ১৮ জুন লাগানো এই আলু মালচিং ছাড়া এবারের গরমে টিকত না। খড় মাটির তাপ কমায়, আর্দ্রতা ধরে রাখে, জৈব পদার্থ বাড়ায়, আর চাষিরা যে খড় পুড়িয়ে ফেলেন তা কাজে লাগে। চাষ না করায় মাটির গঠন ঠিক থাকে, শ্রমও বাঁচে; মাটির আর্দ্রতা সেন্সরের সংকেতে চলা ড্রিপ সেচ প্রচলিত সেচের চেয়ে কম পানিতে কাজ সারে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরের শেষে ফসল তোলার প্রদর্শনী দেখেছে খনি প্রতিষ্ঠান মিনেরা পোদেরোসা, আসোসিয়াসিওন পাতাসসহ এক ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল। মিনেরা পোদেরোসার হিমেনা সোলোগুরেন বলেন, সামনে যা আসছে, তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই হবে।
ছবি: McKay Savage / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: International Potato Center





মন্তব্য
(০)