বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকা পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদের বিলে ভাসমান বেড ও ধাপ পদ্ধতিতে লাউ, মিষ্টিকুমড়া, শিম, পেঁপে, করলা, বেগুন ও মরিচসহ নানা সবজির চারা উৎপাদিত হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার জানান, প্রতি মৌসুমে প্রায় এক কোটি চারা হয়, বিক্রি হয় প্রায় ১০ কোটি টাকায়; প্রায় ছয় হাজার কৃষক এ পেশায় যুক্ত, জানিয়েছে কৃষি সময়।
নাজিরপুরের দেউলবাড়ি-দোবরা ও নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি ব্লকে এ চাষ হয়। প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো পদ্ধতিটি সময়ের সঙ্গে কিছুটা আধুনিক হলেও এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। চারা যায় খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের নানা অঞ্চলে।
প্রাথমিক কাজের বড় অংশ করেন নারীরা। দুলালী লতা দিয়ে চারা বসানোর 'ম্যাদা' বানিয়ে প্রতি এক হাজারে তাঁরা পান ১৫০ টাকা; দিনে কয়েকশ থেকে দুই হাজার চারার কাজ করেন। নেছারাবাদের গগন গ্রামের নুরজাহান বেগম ২০০৫ সাল থেকে এ কাজ করছেন, এখন তাঁর সঙ্গে প্রায় ১০ জন নারী কাজ করেন। তিনি উদ্যোগ বড় করতে চান, কিন্তু পুঁজি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তার অভাবে পারছেন না।
কৃষক লুৎফুর রহমান বলেন, সকাল ছয়টায় কাজে আসেন; বেডে চারা লাগানো, ওষুধ দেওয়া, লতা পরিষ্কার সবই করতে হয়। জাতভেদে প্রতিটি চারা ৩ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হয়।
বলদিয়া গ্রামের নারী শ্রমিক রহিমা বেগম জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খেটেও ২০০ টাকা আয় কঠিন; এক হাজার ম্যাদায় দেড়শ টাকা দিয়ে সংসার চলে না, ভালো প্রশিক্ষণ পেলে উপকার হতো। স্থানীয় নারীদের মতে, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তের ঋণ পেলে অনেকে নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারতেন।
জলাবদ্ধ জমিকে বাধা না ভেবে চাষের আওতায় আনা এই পদ্ধতি হাজারো পরিবারের জীবিকার উৎস। কৃষি অফিস থেকে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার।
ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)