মানুষ ও প্রাণীর পুষ্টির জন্য কার্যকরী উপাদান তৈরি করা ব্রিটিশ ফারমেন্টেশন কোম্পানি মাইকোফিস্ট (Mycofeast) নিউজিল্যান্ডের স্টার্টআপ ডেইজি ল্যাব (Daisy Lab) কিনে নিয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিন কুইন। ডেইজি ল্যাব প্রাণী ছাড়াই দুধের প্রোটিন তৈরি করে; প্রিসিশন ফারমেন্টেশন পদ্ধতিতে তারা পুনঃসংযোজিত হুই প্রোটিন বানায়, যার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে উচ্চফলনশীল গরুর ল্যাক্টোফেরিন কর্মসূচি।
প্রিসিশন ফারমেন্টেশনে অণুজীবের ভেতরে নির্দিষ্ট ডিএনএ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যাতে গাঁজনের সময় তারা কাঙ্ক্ষিত অণু তৈরি করে। ২০২৩ সালে ইরিনা মিলার (Irina Miller), নিকি ফ্রিড ও এমিলি ম্যাকআইজ্যাকের প্রতিষ্ঠিত ডেইজি ল্যাব এ পদ্ধতিতে বিটা-ল্যাক্টোগ্লোবুলিন ও ল্যাক্টোফেরিনের মতো হুই প্রোটিন বানায়। গরুর শালদুধ ও মায়ের দুধে থাকা, আয়রন নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত গ্লাইকোপ্রোটিন ল্যাক্টোফেরিন দুধ থেকে বিশুদ্ধ করে পাওয়া কঠিন; কেজিপ্রতি দাম ৬০০ থেকে ২,০০০ ডলার। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি ৫০০ লিটারের একটি ফারমেন্টার বসিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর কাজ করছে। গবেষণাগারে মানুষের ল্যাক্টোফেরিনও তৈরি করেছে তারা, যদিও গত বছরের শেষে সে কাজ স্থগিত রাখা হয়।
প্রধান নির্বাহী ইরিনা মিলার গ্রিন কুইনকে বলেন, অধিগ্রহণে কোনো কর্মী ছাঁটাই হচ্ছে না; মাইকোফিস্ট প্রযুক্তি ও মানুষ দুটিই চেয়েছে। তাঁর ভাষায়, তহবিল সংগ্রহের কষ্ট ও ফুড টেক খাতের বাজার পরিস্থিতির কারণে অংশীদারত্বের আলোচনা অধিগ্রহণের দিকে গড়ায়; এখন বছরের পর বছর নিজেদের কারখানা ও বাণিজ্যিক কাঠামো গড়ার বদলে গ্রুপের বিদ্যমান সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত এগোনো যাবে। প্রতিষ্ঠাতারা গ্রুপজুড়ে দায়িত্ব পাবেন, আর ডেইজি ল্যাব কাজ করবে মাইকোফিস্টের ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এভোলুশিয়া বায়োর সঙ্গে। ইউরোপে মাইকোফিস্টের ১ কোটি ৬০ লাখ লিটারের একটি ফারমেন্টেশন কারখানাও আছে।
আগামী ১২ মাসে উৎপাদন আরও বাড়ানো, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আবেদন, ক্রেতাদের সঙ্গে পরীক্ষা এবং মাইকোফিস্টের কারখানায় প্রক্রিয়া স্থানান্তরের পরিকল্পনা আছে ডেইজি ল্যাবের। মাইকোফিস্টের প্রধান নির্বাহী উইটেক রুজেভিচ (Witek Hruzewicz) বলেন, ডেইজি ল্যাব একটি শক্তিশালী দুধ-প্রোটিন প্ল্যাটফর্ম, প্রমাণিত উৎপাদন-সক্ষমতা ও দক্ষ একটি দল নিয়ে আসছে।
গ্রিন কুইন জানিয়েছে, বিকল্প প্রোটিন খাতে একীভবনের বৃহত্তর ধারার অংশ এই চুক্তি; ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৯০টির বেশি কোম্পানি একীভূত, অধিগ্রহণ, দেউলিয়া বা বন্ধ হয়েছে। হেলাইনা, অল জি, টার্টলট্রি ও ভিভিসির মতো আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে গাঁজনে তৈরি ল্যাক্টোফেরিন বাজারে বিক্রি করছে। প্রতিবেদনটি করেছেন আনায় মৃদুল।
ছবি: Utkarshsingh.1992 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: গ্রিন কুইন





মন্তব্য
(০)