যুক্তরাষ্ট্রের কর্ন বেল্টের বড় অংশে এবার স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে ফসল তোলা শুরু হয়েছে। ফলে যাঁরা আচ্ছাদন ফসল (কভার ক্রপ) লাগাতে চান, তাপমাত্রা নামার আগে তাঁদের হাতে সময় কম, জানিয়েছে ক্রপলাইফ।
আচ্ছাদন ফসলকে শরতে বেড়ে উঠে শীত পার করতে হয়, নয়তো তুষারে মরার আগে মাটি ধরে রাখার মতো যথেষ্ট সবুজ অংশ তৈরি করতে হয়। তাই দেরিতে লাগালে কম উপকারের বিপরীতে খরচ পোষাবে কি না, তা হিসাব করতে হবে। আবার পূর্বাভাস অনুযায়ী এবার শরৎ উষ্ণ ও ভেজা থাকবে, ফলে মূল ফসল তোলার পরও অনেক দিন মাটিতে নাইট্রিফিকেশনের ঝুঁকি থাকবে, পুষ্টি ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। এমন বছরে আচ্ছাদন ফসল আরও বেশি পুষ্টি ধরে রাখতে পারে।
পাইওনিয়ারের কৃষিতত্ত্ব ব্যবস্থাপক মার্ক জেশকে (Mark Jeschke) বলেন, "বড় বিবেচনা হলো এরপর কী লাগাবেন। সয়াবিনের আগে সাধারণত রাই (সিরিয়াল রাই) ব্যবহার হয়, আর ভুট্টার আগে অন্য শীতসহিষ্ণু প্রজাতি বেশি মানানসই।"
একেক প্রজাতি একেক কাজ করে। শীতসহিষ্ণু ঘাসজাতীয় ফসল প্রচুর জৈববস্তু তৈরি করে, কার্বন ধরে রাখে ও মাটি স্থিতিশীল রাখে, তবে পরের ফসলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বসন্তে মেরে ফেলতে হয়। ওটের মতো শীত-অসহিষ্ণু ঘাস দ্রুত গজায় এবং শীতে নিজেই মরে যায়, ভুট্টার আগে তা সহজ পছন্দ। সরিষাজাতীয় (ব্রাসিকা) ফসলের গভীর মূল শক্ত মাটি ভাঙে এবং কঠিন তুষারের পর দ্রুত পচে যায়। শিমজাতীয় ফসল নাইট্রোজেন দেয়, কিন্তু বসন্তে বেশি দিন রাখতে হয়, তাতে মূল ফসল বোনায় ব্যাঘাত হতে পারে। মিশ্র বীজে এক চালানেই কয়েকটি লক্ষ্য পূরণ করা যায়; কোনো প্রজাতি ক্ষতিকর পোকা বা রোগের আশ্রয় কি না, তাও দেখতে হবে।
ফসল তোলার পর ড্রিল দিয়ে বোনাই আদর্শ, কিন্তু ভেজা বছরে দেরিতে ফসল তোলা হলে আকাশ থেকে বা ছিটিয়ে বোনা যায়, সে ক্ষেত্রে এমন প্রজাতি বেছে নিতে হবে যার বীজ মাটির সঙ্গে ভালো সংযোগ ছাড়াই গজায়। ভাইলরের (Vylor) ক্রপিং সিস্টেমস লিড সারা লিরা (Sara Lira) বলেন, এবার ড্রিলে বোনা কঠিন হবে, তবে মাটিতে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকায় আকাশ থেকে ছিটানো বীজ ভালোভাবে গজানোর কথা।
প্রতিবেদনের মতে, এবার সবার জন্য এক সমাধান নেই। প্রতিটি জমি বর্তমান ও পূর্বাভাসিত আবহাওয়া, বীজের মিশ্রণ ও বপন পদ্ধতি দেখে আলাদাভাবে বিচার করতে হবে। নতুনদের সহজ পরিকল্পনা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ক্রপলাইফ





মন্তব্য
(০)