দেশে গত ৫৫ বছরে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের সারা বছর সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে কোনো সরকার পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিয়ে সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রীর ব্যাখ্যা, বাজারে পণ্য পাওয়া যাওয়া আর দাম সহনীয় থাকা দুটি আলাদা বিষয়: প্রথমটি সরবরাহের স্থিতিশীলতা, দ্বিতীয়টি মূল্যের। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে কয়েক লাখ টন বেশি হলেও মৌসুমের বাইরে দাম বেড়ে যায়; শাকসবজিতেও একই রকম মৌসুমি তারতম্য দেখা যায়।
শীতের সবজির উদাহরণ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ২০ দিন আগেও যে সবজির দাম ১২০ টাকা ছিল, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় এখন তা কমতির দিকে। আবার মৌসুমের শেষে সরবরাহ কমলে দাম বাড়বে।
সমাধান হিসেবে তিনি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবহার বাড়ানো এবং যে সময়ে কোনো পণ্যের উৎপাদন কম থাকে, সে সময়ে উৎপাদনের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা গেলে মৌসুম বদলের কারণে দামের বড় ওঠানামা কমানো যাবে।
রমজানের আমদানি নিয়ে প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, কোন সময়ে কোন দামে পণ্য বুকিং দেওয়া হবে তা ব্যবসায়ীদের কৌশলের বিষয়, সরকার তা বাধ্য করতে পারে না; জাহাজভাড়াও আগে থেকে পুরোপুরি ঠিক করা যায় না। টাকার বিনিময়মূল্য, বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপের মধ্যেও বাজার স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
সবজিচাষির জন্য মন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তির অর্থ স্পষ্ট: মৌসুমের ভরা সময়ে দাম পড়ে যাওয়া আর অসময়ে দাম চড়ার পেছনে আছে সংরক্ষণ ও অসময়ে উৎপাদনের ঘাটতি। হিমাগার আর অফ-সিজন চাষে সরকারি উদ্যোগ এলে কৃষক ও ভোক্তা দুই পক্ষই উপকৃত হতে পারেন। প্রতিবেদনটি করেছেন বাংলানিউজের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজির বাজার, প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)