কম জমি, কম পানি আর অনিয়মিত বিদ্যুতের মধ্যে কাজ করা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য হাইড্রোপনিক চাষব্যবস্থা তৈরি করছেন যান্ত্রিক প্রকৌশলী মোগালে মালেকে (Mogale Maleke)। এ বছর গাউতেং প্রদেশের সেরা তরুণ কৃষক প্রতিযোগিতায় তিনি রানারআপ হয়েছেন।
জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্রপ্রকৌশলে স্নাতকোত্তর মালেকে ২০১৬ সালে গাউতেংয়ে নগর কৃষি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে কৃষির প্রতি আগ্রহী হন। গবেষণায় দেখা যায়, শহরের চাষিদের বড় বাধা ছোট জমি আর পানির অভাব। ফুড ফর মজানসিকে তিনি বলেন, তাঁর মনে হয়েছিল এর কোনো প্রযুক্তিগত সমাধান নিশ্চয়ই আছে।
তাঁর প্রতিষ্ঠান এবি ফার্মস এখন হাইড্রোপনিক ব্যবস্থার নকশা, নির্মাণ ও স্থাপন করে। এ পদ্ধতিতে মাটি ছাড়া পুষ্টিমিশ্রিত পানিতে গাছ জন্মায় এবং পানি বারবার ব্যবহার হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত এমন জায়গার উপযোগী করেও এগুলো তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠানটি নিজেরাও সবজি ফলিয়ে বিক্রি করে। ছাদে কিংবা জমির অনুর্বর অংশে এ ব্যবস্থা বসানো যায়। পালংশাক, সুইস চার্ড, লেটুস, ভেষজ ও মাইক্রোগ্রিনের পাশাপাশি টমেটো, মরিচ ও শসাও এতে ভালো হয়।
মালেকে সতর্ক করেন, হাইড্রোপনিকস লাভের কোনো শর্টকাট নয়। মাটির চাষের চেয়ে এটি বেশি কারিগরি, আর লাভ আসতে সময় লাগে। তাঁর পরামর্শ: ছোট একটি ব্যবস্থা দিয়ে শুরু করুন, হাতে-কলমে শিখুন, জ্ঞান বাড়লে বাড়ান, আর উৎপাদন বাড়ানোর আগে স্থানীয় ক্রেতার চাহিদা নিশ্চিত করুন। এবি ফার্মস রেস্তোরাঁ ও হোটেলে সরবরাহকারী প্রক্রিয়াজাতকারী, স্বাধীন খুচরা বিক্রেতা এবং জোহানেসবার্গের তাজা পণ্যের বাজারে বিক্রি করে।
খামারটি প্রদর্শনী, গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে, যেখানে অন্য কৃষকেরা ব্যবস্থাটি চলতে দেখেন। মালেকের কথায়, কৃষকেরা একসঙ্গে কাজ করলেই ভালো করেন। তরুণ কৃষকদের জন্য তাঁর পরামর্শ, অধ্যবসায় আর ধৈর্য অনেক দূর নিয়ে যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ শহর ও শহরতলিতেও ছোট পরিসরে শুরু এবং আগে বাজার নিশ্চিত করার এই পরামর্শ সমান প্রযোজ্য। প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্যাট্রিশিয়া টেম্বো।
ছবি: Battledp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি




মন্তব্য
(০)