ভারতের কৃষিতে সৌরশক্তি ছড়ানোর প্রধান প্রকল্প পিএম-কুসুম ২০২৬ সালের মার্চে প্রথম ধাপ শেষে আলাদা সৌরসেচ পাম্পের লক্ষ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করেছে, কিন্তু বিকেন্দ্রীকৃত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। ২৭ অক্টোবর এক ওয়েবিনারে দিল্লির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (সিএসই) এ তথ্য দিয়েছে।
২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের তিনটি অংশ। কম্পোনেন্ট এ, অর্থাৎ কৃষিজমিতে গ্রিডসংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, ১০,০০০ মেগাওয়াট লক্ষ্যের বিপরীতে প্রায় ২,৪০০ মেগাওয়াট বসিয়েছে। কম্পোনেন্ট বিতে বসেছে প্রায় ১,১৯,০০০ আলাদা সৌরপাম্প। গ্রিডে চলা পুরোনো কৃষি পাম্প ও ফিডার সৌরশক্তিতে রূপান্তরের কম্পোনেন্ট সির অগ্রগতি রাজ্য ও মডেলভেদে ভিন্ন। সিএসইর নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির ব্যবস্থাপক বিনীত দাস জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ফিডার প্রকল্পে রাজ্য সংস্থা, বিতরণ কোম্পানি, নিয়ন্ত্রক, উদ্যোক্তা, ঋণদাতা ও জমির মালিকদের সমন্বয় লাগে, আর কিছু রাজ্যে অগ্রগতি প্রায় নেই।
সরকার পিএম-কুসুম ২.০ প্রস্তুত করছে। সিএসই চায়, সক্ষমতা বরাদ্দের আগে জমি, গ্রিডের সক্ষমতা, অনুমোদন, ক্রয় ও অর্থায়নের প্রস্তুতি যাচাই হোক, পুরো খরচ বিবেচনায় দাম ঠিক হোক এবং বিল ও অর্থ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকুক। বিতরণ কোম্পানির দেরিতে অর্থ পরিশোধে উদ্যোক্তাদের ঋণের খরচ বাড়ে।
সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, পরের ধাপে অ্যাগ্রিভোল্টাইকসের আলাদা অংশ থাকবে, যেখানে একই জমিতে ফসল চাষ ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকাশিত খবরে বিদ্যমান দায়সহ ৫১,০০০ কোটি রুপি পর্যন্ত অর্থের প্রয়োজনের কথা এসেছে, তবে চূড়ান্ত বরাদ্দ ও নিয়ম এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়। সিএসই বলেছে, অ্যাগ্রিভোল্টাইক নকশা ফসলের চাহিদা, স্থানীয় কৃষি-জলবায়ু ও খামারের আকারের সঙ্গে মানানসই হতে হবে, আর ক্ষুদ্র ও বর্গাচাষিরাও যেন অর্থায়ন পান।
সংস্থাটি সতর্ক করেছে, সেচের খরচ কমলে সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি তোলা বাড়তে পারে, তাই সৌরসেচকে পানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের নীতি উপদেষ্টা প্রিয়মী দত্ত বলেন, পিএম-কুসুম ২.০-এর সাফল্য মাপা হবে কৃষিজমিতে কত সৌরক্ষমতা বসল তা দিয়ে নয়, জমিনির্ভর কৃষকের কতটা বাস্তব সুবিধা হলো তা দিয়ে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন দক্ষিণী পালিচা।
ছবি: Shailsh Telang / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Down To Earth



মন্তব্য
(০)