শীতকালীন সবজি, পেঁয়াজ, সরিষা ও ভুট্টা চাষের মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না কৃষকেরা। বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্থানে হট্টগোল হয়েছে, ডিলার পয়েন্টে ভিড় সামলাতে পুলিশ ও প্রশাসনকে নামতে হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে শিবগঞ্জের শাহবাজপুর ইউনিয়নের বন্ধন ট্রেডার্স ডিলার পয়েন্টে হাতাহাতিও হয়েছে।
সরকারি হিসাবে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। মানবজমিনের অনুসন্ধানে কৃষক, ডিলার ও কর্মকর্তাদের কথায় সংকটের তিনটি কারণ উঠে এসেছে: অপ্রতুল বরাদ্দ, ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম আর সচেতনতার অভাবে জমিতে প্রয়োজনের বেশি সার দেওয়া।
চলতি অর্থবছরে জেলায় ইউরিয়ার চাহিদা ৪২,৭৪৯ টন, বরাদ্দ ৩৯,১০৩ টন; টিএসপির চাহিদা ৯,৫৪০ টন, বরাদ্দ ৭,৮৪০ টন; ডিএপির চাহিদা ৪০,৩৯৩ টন, বরাদ্দ ৩৪,৫৮০ টন; এমওপির চাহিদা ২২,১৯১ টন, বরাদ্দ ১৯,৮১৩ টন। সব মিলিয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৩ টন চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৬ টন, অর্থাৎ ১৩,৫৩৭ টন কম। জেলায় বিএডিসির ৩৮ জন ও বিসিআইসির ৫৮ জন ডিলার কৃষকদের সার দেন।
ডিলারদের দাবি, নভেম্বরে আলু, পেঁয়াজ ও শীতের সবজির জন্য দ্বিগুণ সার লাগবে, আর আগাম সার কিনে রাখার প্রবণতায় চাপ আরও বাড়ছে; নভেম্বরের বরাদ্দ আগেই দেওয়া হয়ে গেছে, তাতে সংকট কাটবে না। তাঁদের মতে, উপবরাদ্দ আর যেখানে সার বাড়তি আছে সেখান থেকে ঘাটতির এলাকায় পুনর্বণ্টন দরকার। সদরের বিসিআইসির এক ডিলার জানান, তাঁর ইউনিয়নে এ মৌসুমে অন্তত ১০০ টন ডিএপি লাগবে, অক্টোবর-নভেম্বরে পেয়েছেন মাত্র ৬৫ টন। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি আকবর হোসেনও বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার অভিযোগ, উপজেলার কর্মকর্তারা মাঠ যাচাই না করে গতানুগতিক চাহিদা পাঠান। জেলায় বারোমাসি আম, পেয়ারা, মাল্টাসহ নানা ফল ও ফসলের উৎপাদন বেড়েছে, ৪৫টি ইউনিয়নে চাষ একরকম নয়, অথচ বরাদ্দ প্রায় সমান।
তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলামের দাবি, সংকট নেই, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ মিলেছে; কৃষকেরা পরের ফসলের জন্যও সার কিনে রাখছেন, সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকেই কিছুটা বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে, চাহিদা দিলে বরাদ্দ দেওয়া হবে, আর চাঁপাইনবাবগঞ্জে কেন সংকট, তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রতিবেদন: ফারুক আহমেদ চৌধুরী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মানবজমিন।
ছবি: ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (পলাশ) প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, Mar11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: মানবজমিন




মন্তব্য
(০)