বঙ্গোপসাগরের অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ার পূর্বাভাসে উদ্বেগে পড়েছেন ধানচাষিরা। জমিতে ধানের শীষ বেরিয়েছে, কোথাও ফসল পাকার মুখে; এখন ঝড়বৃষ্টি হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
জাগো নিউজের প্রতিবেদক ধৃমল দত্ত জানান, উপকূলীয় জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ জমিতে এবার ধান হয়েছে। কৃষকদের ভয়, ভারী বৃষ্টি আর জোরালো হাওয়ায় পাকা ধানগাছ মাটিতে শুয়ে পড়বে, ফলন কমবে, ধান কাটাও কঠিন হবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় কাকদ্বীপের কৃষক রতন মাইতি জানান, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের ধান কাটা শুরুর কথা। আরেক কৃষক সুবল হাজরা বলেন, "ঝড়ের কথা শুনেই আমরা আতঙ্কে রয়েছি। এখন ধান বেরিয়ে গেছে। এই সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না।"
কৃষি দপ্তর কৃষকদের সতর্ক থাকতে এবং জমিতে বৃষ্টির পানি যেন না জমে, সেজন্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে বলেছে। ব্লক কৃষি আধিকারিক ড. মিলন রায় জানান, যেসব জমির ধান পেকে গেছে, তা কেটে নিরাপদে তুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; লম্বা জাতের গাছের শীষ ভারী হলে বাঁশ দিয়ে সারি করে বেঁধে রাখতে বলা হয়েছে, যাতে ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ না পড়ে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছিল, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি প্রভাবের আশঙ্কা কম হলেও উপকূলসহ কয়েকটি জেলায় পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে; পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলে সতর্কতা জারি হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, উপকূলে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, কোথাও ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বইতে পারে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে বৃষ্টির, কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে। গভীর সমুদ্রে থাকা ট্রলারগুলোকে দ্রুত ফিরতে বলা হয়েছে, আর ২৭ অক্টোবর থেকে শনিবার পর্যন্ত দিঘা, তাজপুর, শঙ্করপুর ও মন্দারমণিতে সমুদ্রে নামা নিষেধ।
প্রতিবেদন: ধৃমল দত্ত, জাগো নিউজ ২৪।
ছবি: হাওড়ার ধুলাগড়ের ধানখেত, Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)