পাকা ধান ঘরে তোলার মুখে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের কৃষকদের দুশ্চিন্তা হাতি, জানিয়েছে কলকাতার দৈনিক এই সময়। ধানের গন্ধে যেকোনো সময় দাঁতালের দল এসে খেত সাবাড় করতে পারে, তাই জঙ্গল লাগোয়া গ্রাম আর বনবস্তিতে জমির পাশে গাছের মগডালে "টং ঘর" (বিশেষ ধরনের মাচা) বানিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা।
তবু সব সময় ফসল বাঁচানো যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও মুহূর্তের মধ্যে হাতির দল ধান খেয়ে আর মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে।
চাষিদের অভিযোগ, কর্মী কম থাকায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ও বক্সা টাইগার রিজার্ভ লাগোয়া গ্রামগুলোতে বন দপ্তর ঠিকমতো নজরদারি চালাতে পারছে না। তাই সারা দিন খেতে খাটুনির পর রাতভর পাহারা দিতে হচ্ছে তাঁদের।
ক্ষতিপূরণ নিয়েও ক্ষোভ আছে। চাষিরা বলছেন, হাতি ফসল নষ্ট করলেও বন দপ্তরের ক্ষতিপূরণ ঠিকমতো মেলে না, কারও কারও এক বছর লেগে যায়, আর বেশির ভাগ সময় ক্ষতির সঙ্গে টাকার অঙ্ক মেলে না। তাঁদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষি দপ্তর যেমন বিমার মাধ্যমে সুরক্ষা দেয়, জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের চাষিদের জন্যও সরকার তেমন বিশেষ প্রকল্প চালু করুক।
চিলাপাতার কৃষক রবি রাভা বলেন, "আমরা সারা বছর কষ্ট করে ফসল ফলাই। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার মুখে হাতির দল সব শেষ করে দেয়। বন দপ্তরের ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে আমাদের লোকসান মেটে না।" তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর পাশের শিলাজ রাভা ও যোগেন রাভার জমির ধান হাতির দল খেয়ে গেছে, আর সরকার বিমার ব্যবস্থা করলে তবেই তাঁরা একটু শান্তিতে বাঁচতে পারবেন।
বিষয়টি নিয়ে জলদাপাড়ার ডিএফও পারভীন কাসোয়ানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করতে চাননি, মেসেজেরও জবাব দেননি বলে জানিয়েছে এই সময়।
প্রতিবেদন: অয়ন্তিকা সাহা, আলিপুরদুয়ার, এই সময়।
সূত্র: এই সময়




মন্তব্য
(০)