সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৮%বাতাস ৯ কিমি/ঘ

উৎপাদন বাড়লেও ফসল নষ্ট হচ্ছে কেন: সংরক্ষণ, পরিবহন আর বাজারের সমন্বয়ের ডাক

জাগো নিউজের এক মতামত লেখায় সমীরণ বিশ্বাস বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ, পরিবহন, গ্রেডিং ও বাজারজাতকরণের দুর্বলতায় ফসলের বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে বা ন্যায্য দাম পাচ্ছে না; সমাধানে তিনি ছয় দফা সমন্বিত উদ্যোগের কথা বলেছেন।

উৎপাদন বাড়লেও ফসল নষ্ট হচ্ছে কেন: সংরক্ষণ, পরিবহন আর বাজারের সমন্বয়ের ডাক
মতামত

বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদন বাড়া বড় অর্জন, কিন্তু উৎপাদন বাড়লেই কৃষকের লাভ বা ভোক্তার কাছে সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাবার পৌঁছানোর নিশ্চয়তা নেই। জাগো নিউজে প্রকাশিত এক মতামত লেখায় সমীরণ বিশ্বাস এই কথা দিয়ে শুরু করেছেন: সংগ্রহের পর থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ফসলের একটি বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে, মান হারাচ্ছে বা ন্যায্য দাম পাচ্ছে না।

তাঁর প্রশ্ন, উৎপাদন বাড়ানোয় যতটা জোর, সংরক্ষণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় কি ততটা জোর আছে? তাঁর মতে এই তিন ক্ষেত্র পরস্পরের সঙ্গে জড়িত, আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অপরিকল্পিত উৎপাদন, বাজারতথ্যের ঘাটতি, মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা আর সমন্বয়ের অভাব। ফলে কৃষক খরচ তুলতে হিমশিম খান, অথচ ভোক্তা অনেক সময় একই পণ্যে বেশি দাম দেন।

লেখক বলছেন, আকার, পরিপক্বতা, মান ও নিরাপত্তা অনুযায়ী পণ্যের গ্রেডিং হলে ভালো পণ্য ভালো দাম পাবে, কম মানের পণ্যও বিকল্প বাজারে বা প্রক্রিয়াজাতকরণে যাবে। কিন্তু গ্রেডিং, মান নির্ধারণ, প্যাকেজিং ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা অনেক জায়গায় অপর্যাপ্ত। তাঁর প্রস্তাব, কৃষক পর্যায়ে সংগ্রহকেন্দ্র, বাছাই ও প্যাকেজিং সুবিধা, ডিজিটাল বাজারতথ্য আর উৎপাদক সংগঠনের ভূমিকা বাড়ানো।

উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়েও তিনি লিখেছেন: চাহিদা, উৎপাদন, সংরক্ষণক্ষমতা ও বাজারের সমন্বয় না থাকলে কোনো মৌসুমে বাড়তি সরবরাহ, অন্য সময় ঘাটতি হয়। কৃষককে কী, কতটা উৎপাদন করবেন, কোথায় বেচবেন, কীভাবে রাখবেন, এসব প্রশ্নের বাস্তব উত্তর দিতে কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য, সড়ক পরিবহন, স্থানীয় সরকার ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় দরকার; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষে একা সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজার তদারকি আর প্রক্রিয়াজাতকরণের সব দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।

সম্প্রসারণের সক্ষমতা প্রসঙ্গে তাঁর মত, জনবল ও লজিস্টিকসের ঘাটতি আর কৃষকের সঙ্গে আস্থার সংকট কাজের কার্যকারিতা কমায়। প্রযুক্তি হস্তান্তর ওপর থেকে নির্দেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া না হয়ে কৃষকের অভিজ্ঞতা, জমি আর সামর্থ্য বিবেচনায় অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত; স্মার্টফোন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর ও আধুনিক সংরক্ষণপ্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী শিক্ষিত তরুণ কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয় উদ্যোক্তা গড়ার কথা বলেছেন তিনি।

সমাধানে লেখকের ছয় দফা: প্রধান কৃষিপণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতির নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ; উৎপাদন এলাকায় কমিউনিটিভিত্তিক শীতল সংরক্ষণাগার, শুষ্ক গুদাম, সংগ্রহকেন্দ্র ও প্যাকেজিং সুবিধা; কৃষক সংগঠন ও সমবায়ের মাধ্যমে যৌথ সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ; ডিজিটাল প্রযুক্তিতে উৎপাদন পূর্বাভাস, বাজারদর, চাহিদা ও সংরক্ষণক্ষমতার তথ্য একসঙ্গে আনা; প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিকল্প বাজার বাড়ানো; আর প্রতিযোগিতামূলক বাজার ও স্বচ্ছ মূল্যতথ্যের মাধ্যমে কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা।

লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।

ছবি: বাংলাদেশের একটি ভাসমান হাটে কেনাবেচা, Amdadphoto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

মতামত: ব্রিকস শস্য বিনিময় কেন্দ্র কমাতে পারে বহুজাতিক কৃষি ব্যবসার দাপট

অর্থনীতিবিদ বিশ্বজিৎ ধরের মতে, নয়াদিল্লি ঘোষণায় সমর্থন পাওয়া ব্রিকস শস্য বিনিময় কেন্দ্র বৈশ্বিক দক্ষিণের উৎপাদক ও ক্রেতাদের ন্যায্য ও স্থিতিশীল দাম দিতে পারে।

Rural Voice২৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মতামত

এআই, সেন্সর আর ড্রোন কৃষকের শক্তি হবে, মাটি-পানির বিকল্প নয়: সমীরণ বিশ্বাসের কলাম

ইত্তেফাকে প্রকাশিত কলামে সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি ও ড্রোন কৃষককে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে, তবে প্রযুক্তি ক্ষুদ্র কৃষকের নাগালে না এলে বৈষম্য বাড়বে।

ইত্তেফাক২৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

সরষে ইলিশ থেকে অমৃতসরি মাছ: ভারতের আঞ্চলিক মাছের রান্না নিয়ে এক কলাম

এগ্রোস্পেকট্রামের এক কলামে ড. তরুণ শ্রীধর উৎপাদনের পরিসংখ্যান সরিয়ে রেখে ভারতের আঞ্চলিক রান্নাঘরে মাছের খোঁজ নিয়েছেন: বাংলার সরষে ইলিশ, আসামের টক টেঙ্গা, কেরালার কলাপাতায় করিমিন থেকে পাঞ্জাবের বেসনে ভাজা মাছ।

অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম২৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)