রুরাল ভয়েসে প্রকাশিত এক লেখায় অর্থনীতিবিদ ড. বিশ্বজিৎ ধর বলেছেন, ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের নয়াদিল্লি ঘোষণার কৃষি অঙ্গীকার, বিশেষ করে প্রস্তাবিত "ব্রিকস শস্য বিনিময় কেন্দ্র", বৈশ্বিক দক্ষিণের খাদ্য নিরাপত্তার চেহারা বদলে দিতে পারে। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক তিনটি বিষয়ে নেতাদের ঐকমত্যের কথা বলেছেন: কৃষি জীববৈচিত্র্য এবং বীজ ও জ্ঞানের ওপর কৃষকের অধিকার রক্ষা; ২০২৪ সালে কাজান সম্মেলনে প্রথম প্রস্তাবিত শস্য বিনিময় কেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নেওয়া; আর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আটকে থাকা কৃষি আলোচনা আবার সচল করা।
ভারতের সভাপতিত্বে জোটটি কৃষি উপকরণ, জেনেটিক সম্পদ ও তথ্য নিয়ে কৃষককেন্দ্রিক, বাধ্যবাধকতাহীন নেটওয়ার্ক "ব্রিকস অ্যাগ্রিন" গড়েছে এবং বীজ ব্যবস্থায় কৃষকের অধিকার নিয়ে একটি বৈশ্বিক ফোরাম চালু করেছে। লেখকের মতে, কয়েকটি সদস্যদেশ বিপুল জীববৈচিত্র্যের দেশ, আর দেশি ফসল ও প্রাণীর জাতসহ বৈচিত্র্যময় কৃষি আবহাওয়াজনিত খাদ্য ক্ষতি কমায়।
রাশিয়ার প্রস্তাবিত শস্য বিনিময় কেন্দ্র হবে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে উৎপাদক ও ক্রেতা বাইরের মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি লেনদেন করবেন। লেখকের যুক্তি, এতে যুক্তরাষ্ট্রের সিএমই গ্রুপ ও আইসিই এবং ইউরোপের ইউরোনেক্সটের মতো বিনিময় কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমবে, রপ্তানিকারক ভালো ও স্থিতিশীল দাম পাবেন, আমদানিকারকের খরচ কমবে।
তিনি বিষয়টিকে অর্থনীতিবিদ রাউল প্রেবিশ ও হান্স সিঙ্গারের কাজের সঙ্গে মিলিয়েছেন, যাঁরা কয়েক দশক আগে দেখিয়েছিলেন উত্তরের নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যে পণ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো কীভাবে ঠকেছে। নেতারা কেন্দ্রটিকে শস্যের বাইরে অন্য কৃষি ও অকৃষি পণ্যে বাড়ানোর কথাও ভেবেছেন, যা লেখকের মতে এর টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াবে।
আমদানিনির্ভর দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জন্য প্রশ্নটা হলো, এমন প্ল্যাটফর্ম ঘোষণার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হঠাৎ দামের ওঠানামা ও সরবরাহ সংকট থেকে সুরক্ষা দিতে পারে কি না।
ছবি: John Coppi, CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)