অস্ট্রেলিয়ার বেশির ভাগ গরু খামারে আগামী বছরের বাছুরগুলো সবে জন্মেছে; এরা কতটা বাড়বে, তার ওপর নির্ভর করবে বিক্রির আয় এবং কোন বকনাকে পরের প্রজন্মের গাভি হিসেবে রাখা হবে। বিফ সেন্ট্রালের সাপ্তাহিক জেনেটিক্স পর্যালোচনা বলছে, দুধ ছাড়ানোর সময়ের ওজন একা অনেক কিছু লুকিয়ে রাখে: বাছুর কীভাবে ওই ওজনে পৌঁছাল, মা কতটা দিল, আর খামারের নিজের খাদ্যে মা আবার তা পারবে কি না, ওজন তা বলে না।
পর্যালোচনার ভিত্তি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের মন্টানার মাইলস সিটির ফোর্ট কিওগ (Fort Keogh) গবেষণাগারে ১৯৩৪ সাল থেকে রাখা লাইন ১ হেয়ারফোর্ড গরুর পাল। ২০০৬ সালে জন্ম থেকে দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত ওজন বৃদ্ধির ৬,৮৩৫টি রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মাইকেল ম্যাকনিল ও টমাস মট দেখান, বাছুরের নিজের বৃদ্ধির জিন ওজন বৃদ্ধির পার্থক্যের প্রায় ১৩ শতাংশ ব্যাখ্যা করে। দুধ ও মাতৃযত্নের মাধ্যমে বাছুর পালনের ক্ষমতায় গাভিদের জিনগত পার্থক্য ব্যাখ্যা করে আরও ২৫ শতাংশ; গাভির নিজের বেড়ে ওঠা বা পুরোনো ওলানের আঘাতের মতো স্থায়ী অজিনগত পার্থক্য ১৮ শতাংশ; আর মৌসুম ও অন্যান্য সাময়িক প্রভাব বাকি ৪০ শতাংশ।
অর্থাৎ গাভি বাছুরের ওজনে প্রভাব ফেলে দুবার: একবার নিজের অর্ধেক জিন দিয়ে, আরেকবার মা হিসেবে যে পরিবেশ দেয় তা দিয়ে। ষাঁড়ের প্রভাব কেবল বাছুরের জিনের মাধ্যমে, যদিও পরে তার কন্যারা তার মাতৃগুণের জিন বহন করে। গাভির বাছুর পালনের দক্ষতার অর্ধেকের কিছু কম এক বাছুর থেকে পরের বাছুরে ফিরে আসে, তাই একটি নয়, কয়েকটি বাছুর দেখেই গাভির আসল মান বোঝা যায়। গবেষণায় মাতৃগুণজনিত ওজন বৃদ্ধি ও দুধ উৎপাদনের মধ্যে জিনগত সম্পর্ক পাওয়া যায় ০.৮০।
অস্ট্রেলিয়ার খামারিদের হাতে এই অংশগুলো আলাদা করার উপায় আছে। ব্রিডপ্ল্যানের ২০০ দিনের বৃদ্ধির ইবিভি (প্রজনন মূল্যের অনুমান) বাছুরের নিজের বৃদ্ধি দেখায়, আর মিল্ক ইবিভি দেখায় ওই ওজনে মায়ের জিনগত অবদান, যা লিটার দুধে নয়, বাছুরের কেজি ওজনে প্রকাশ করা হয়। ব্রিডপ্ল্যান বলছে, ভালো খাদ্যে রাখা গাভি বা দুধ ছাড়ানো বাছুর বিক্রি করা খামারে বেশি মিল্ক ইবিভি কাজে আসে, কিন্তু দুর্বল চারণভূমিতে বেশি দুধের গাভি পরের বছর গর্ভধারণে পিছিয়ে পড়তে পারে।
পরিবেশও গরুর অবস্থান বদলে দেয়। ২০১৭ সালের আরেক ফোর্ট কিওগ গবেষণায় স্বাভাবিক বছরে বৃদ্ধির সরাসরি বংশগতি ছিল ১০ শতাংশ, খারাপ ও ভালো বছরের দিকে তা বেড়ে ১৮ ও ২২ শতাংশ। আবার দ্রুত বৃদ্ধি খাদ্যের হিসাব দেয় না: অস্ট্রেলিয়ার বিফ সিআরসি মাতৃ উৎপাদনশীলতা প্রকল্পে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রুয়ান ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ভাসে ৫০০ অ্যাঙ্গাস গাভির মধ্যে কম খাদ্য গ্রহণের ধারার গাভিরা বছরে প্রায় ৭ শতাংশ কম খেয়ে বেশি দক্ষতায় বাছুর বড় করেছে, তবে তারা ছিল রোগা, দুধ ছাড়ানো বাছুরের হার ৬.৩ শতাংশ কম এবং বাচ্চা দিয়েছে গড়ে প্রায় ৫.৪ দিন দেরিতে।
পর্যালোচনার পরামর্শ: বৃদ্ধি, মাতৃগুণ, গাভির আকার ও প্রজননক্ষমতার এমন ভারসাম্য খোঁজা, যা খামারের খাদ্য ও বাজারের সঙ্গে মেলে; আর প্রতিটি গাভিকে কয়েক বছর ধরে তার বাছুরের ওজন, শরীরের অবস্থা ও গর্ভধারণের ফলের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার করা। প্রজনন খামারের জন্য কোনো দলকে আলাদা খাওয়ানোর আগেই বাছুর ওজন করা এবং ব্যবস্থাপনা দলের সঠিক রেকর্ড রাখাই ক্রেতাদের দেওয়া ইবিভিকে নির্ভরযোগ্য করে।
ছবি: Jlenevez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central




মন্তব্য
(০)