অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ গরুর মাংসের পাইকারি ব্যবসার জন্য বছরটি কঠিন গেছে, তবে গ্রীষ্মের বারবিকিউ মৌসুম ও বড়দিনের আগে দাম আবার শক্ত হতে শুরু করেছে বলে পাইকারেরা বিফ সেন্ট্রালকে জানিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে সরবরাহের জন্য চীনের বাজারে ফেরা, এশিয়াজুড়ে কেনাকাটা বাড়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্থির রপ্তানির কারণে গত এক-দুই সপ্তাহে দাম বেড়েছে।
চাপ এসেছে দুই দিক থেকে। পূর্ব ও দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে ব্যবসা থাকা এক বড় পাইকার জানান, বছরের বেশির ভাগ সময় মুনাফা ছিল সংকুচিত, আর পরিচালন খরচ বেড়েছে অনেক। জ্বালানির দামের কারণে মেলবোর্ন থেকে ব্রিসবেনে এক প্যালেট প্যাকেটজাত মাংস পাঠাতে যেখানে ৪০০ ডলার লাগত, এখন প্রায়ই লাগে ৬০০ ডলার, অর্থাৎ কেজিতে বাড়তি ৩০ সেন্ট। সুদের হার বাড়া ও লাল মাংসের রেকর্ড দামের কারণে ক্রেতারাও সাবধানী।
তবু ভালো মানের প্রাইমাল কাট ২০২৬ সালজুড়ে মোটামুটি শক্ত দামে বিক্রি হয়েছে, এমনকি শীতেও, যখন গ্রিলের মাংস সাধারণত কম চলে। পাইকারিতে যে স্ট্রিপলয়েন ও কিউব রোল কেজিপ্রতি প্রায় ১৭ ডলারে নেমেছিল, তা এখন ২১ থেকে ২২ ডলারে উঠেছে; ভালো শর্টফেড মাংস ২৩ থেকে ২৪ ডলার। দানাদার খাদ্যে মোটাতাজা ষাঁড়ের রাম্প কেজিপ্রতি ১৪-১৫ ডলার থেকে ১৭ ডলার বা তার বেশি হয়েছে।
দুর্বল জায়গা ট্রিমিংস, যা মৃতদেহের মোট মূল্যের প্রায় ৩০ শতাংশ। এক সূত্র জানান, অভ্যন্তরীণ ট্রিমিংসের দাম কয়েক মাস আগের চেয়ে কেজিতে এক ডলারের বেশি কম। রপ্তানির যে ট্রিমিংস কেজিপ্রতি প্রায় ১২ ডলারে বিক্রি হতো, তা এখন ৯০সিএল মানে প্রায় ১০ ডলার ও ৮৫সিএল মানে ৯ থেকে ৯.৫০ ডলার, আংশিক ব্রাজিলের প্রতিযোগিতার কারণে; তবে চীন ফেরায় তিন সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম কেজিতে প্রায় এক ডলার বেশি।
পাইকারদের মতে, বছরের শুরুর তুলনায় হিমাগারে মাংস কম, কারণ দক্ষিণের কিছু প্রক্রিয়াজাত কারখানা এখনো সপ্তাহে চার দিন চলছে। অনেক ক্রেতা রেস্তোরাঁয় খাওয়ার বদলে বাড়িতে ভালো মাংস রান্না করছেন, ফলে বিক্রি খাদ্যসেবা থেকে খুচরায় সরে গেছে, মোট বিক্রি তেমন কমেনি। নয় মাসে শূকরের মাংসের দাম কেজিতে প্রায় এক ডলার কমায় লাল ও সাদা মাংসের দামের ফারাক আরও বেড়েছে।
বড়দিন পর্যন্ত বাজার নিয়ে পাইকারেরা সতর্কভাবে আশাবাদী। বড় পাইকারটি বলেন, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যবসা ভালোই চলবে বলে তাঁর ধারণা, তবে রেকর্ড দাম হবে না, কারণ ক্রেতারা পিছিয়ে যান। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি বরাবরের মতো লাল মাংস বিক্রির ঝুঁকির সময়, আর বড়দিনের আগে আরেক দফা সুদহার বাড়লে ক্রেতাদের আস্থা কমতে পারে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন জন কনডন (Jon Condon)।
ছবি: David Jackmanson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Beef Central




মন্তব্য
(০)