ছোট কসাইখানা বন্ধ হওয়া ঠেকাতে হালকা নিয়মকানুন ও লক্ষ্যভিত্তিক তহবিল চেয়েছে যুক্তরাজ্যের ১৫০টির বেশি খাদ্য ও কৃষি সংগঠন, জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। অ্যাবাটয়ার সেক্টর গ্রুপ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে চিঠি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও ফি ব্যবস্থা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
জোটটির হিসাবে ১৯৭০-এর দশক থেকে যুক্তরাজ্যে প্রতি দশটির নয়টির বেশি কসাইখানা বন্ধ হয়েছে, প্রায় ২,৫০০ থেকে নেমে এখন প্রায় ২০০। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর, যারা খামারির নিজের পশু জবাই, কাটা ও প্যাকেটজাত করার সেবা দেয়, যা বড় প্রক্রিয়াজাতকারীরা প্রায়ই দেয় না; এই সেবার কারণেই খামারিরা সরাসরি ক্রেতা, কসাই ও খামারের দোকানে মাংস বিক্রি করতে পারেন।
সাসটেইনেবল ফুড ট্রাস্ট, সয়েল অ্যাসোসিয়েশন ও রেয়ার ব্রিডস সারভাইভাল ট্রাস্টের ২০২৫ সালের এক জরিপে ৮৫০ জন খামারি ও ভূমি ব্যবস্থাপকের দুই-তৃতীয়াংশ জানিয়েছেন, আগের পাঁচ বছরে উপযুক্ত কসাইখানা পেতে তাঁদের সমস্যা হয়েছে; এক-তৃতীয়াংশের ব্যবহৃত কসাইখানা বন্ধ হয়েছে। বর্তমানটি বন্ধ হলে ৪৩ শতাংশ বলেছেন তাঁরা আর স্থানীয়ভাবে মাংস বিক্রি করতে পারবেন না, ২৯ শতাংশ বলেছেন মাংসের ব্যবসাই বন্ধ করতে হতে পারে।
জোটটি চায় স্থানীয় ও আঞ্চলিক কসাইখানাকে অপরিহার্য অবকাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি, কোথায় জবাইয়ের সুবিধার ঘাটতি তা খুঁজে টেকসই কেন্দ্র গড়তে তহবিল, আর সমবায়, ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মতো সমাধান। তাদের মতে, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের ৪০ লাখ পাউন্ডের স্মলার অ্যাবাটয়ার ফান্ডের মতো মূলধন অনুদান আর্থিকভাবে টেকসই নয় এমন কাঠামো ঠিক করতে পারবে না। চেয়ারম্যান ক্রিস্টোফার প্রাইস বলেন, প্রক্রিয়াজাতের অবকাঠামো ছাড়া ব্রিটিশ মাংস সম্ভব নয়।
ইস্ট সাসেক্সের রেট ফার্মে প্রায় ৪০০ দেশি জাতের ভেড়া পালেন আনা জিয়েলিকা-হার্ডি। খামার থেকে দশ মিনিট দূরের কসাইখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আরেকটিতে দুই মাসের অপেক্ষা। পাঁচটি ভেড়া পরের নিকটতম কসাইখানায় নিয়ে মাংস ফেরত আনতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়কে কাটে। তিনি অংশীদারদের সঙ্গে খামারেই নিয়ন্ত্রিত জবাইয়ের একটি মডেল খতিয়ে দেখছেন, যাতে প্রতি দফায় খাবার ও পরিবহনে প্রায় ১০০ পাউন্ড বাঁচবে বলে তাঁর হিসাব। তাঁর কথায়, প্রতিটি পশুর ভালো জীবন ও ভালো মৃত্যু প্রাপ্য, আর প্রতিটি খামারির তা দেওয়ার উপায়।
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)