সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ছাগলের পিপিআর রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এ রোগে প্রায় ৪০টি ছাগল মারা গেছে। এর মধ্যেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পিপিআর টিকার মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় খামারি ও ছাগল পালনকারীরা উদ্বেগে আছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় ছাগলের পিপিআর টিকার চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ডোজ। এর বিপরীতে মজুত ছিল মাত্র ১৬ হাজার ডোজ, এখন সেটিও শেষ। ফলে বিপুলসংখ্যক ছাগলকে টিকার আওতায় আনা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ছাগল পালনকারীদের অভিযোগ, রোগ ছড়ানোর সময়েও চাহিদার তুলনায় টিকা কম আসায় অনেক ছাগলকে সময়মতো টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন ক্ষুদ্র খামারি ও প্রান্তিক ছাগল পালনকারীরা। আবুল হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও রাসিদা খাতুন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছাগল অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে; দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগ আরও ছড়াতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
তাড়াশের গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার বাড়তি আয়ের জন্য বাড়িতে ছাগল পালে। এসব পরিবারের কাছে ছাগল জীবিকা ও সঞ্চয়ের বড় অবলম্বন। একেকটি ছাগল মারা যাওয়ায় স্বল্প পুঁজির পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।
খামারি ও ছাগল পালনকারীরা দ্রুত পর্যাপ্ত পিপিআর টিকা সরবরাহ, আক্রান্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা, রোগের বিস্তার ঠেকানোর ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় কম টিকা পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। বাড়তি টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে, সরবরাহ পেলেই টিকাদান জোরদার করা হবে।
প্রতিবেদন: এগ্রিকেয়ার২৪ ডেস্ক।
ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)