দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে কয়েক দশকের অন্যতম ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো। সেই মৌসুম নিয়ে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র সিমিটের (CIMMYT) বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে দুটি গবেষণা ভিন্ন পথে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে: ফসলে বৈচিত্র্য, উন্নত জাত ও ভালো চাষাবাদ ক্ষতি কমায়, কিন্তু চরম খরা পুরোপুরি ঠেকাতে পারে না কোনোটিই।
জাম্বিয়ার গবেষণাটি ক্লাইমেট সার্ভিসেস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে জেলাভিত্তিক উৎপাদনকে ৩০ বছরের বৃষ্টির তথ্যের সঙ্গে মেলানো হয়েছে। ৩০ বছরের গড়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম বৃষ্টির মৌসুমে ভুট্টার ফলন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ, জোয়ারের ৯ শতাংশ আর বাজরার ১২ শতাংশ। ধান ও মিষ্টি আলুর ক্ষতিও বেশি ছিল, তবে সূর্যমুখী, বরবটি, শিম ও চিনাবাদাম সয়াবিনের চেয়ে ভালো টিকেছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে জাম্বিয়ার ফসল উৎপাদনের প্রকৃত মূল্য কমেছে ৬৪ শতাংশ, যার প্রায় ৭৬ শতাংশের জন্য খরাই দায়ী বলে হিসাব গবেষকদের।
জিম্বাবুয়ের গবেষণাটি ফুড সিকিউরিটি সাময়িকীতে প্রকাশিত, সহায়তা দিয়েছে সিমিট ইনোভেশন ফান্ড। কম ও বেশি বৃষ্টির দুই জেলা মুরেওয়া ও জাকার ৪৩৫টি পরিবার ও ৫৪২টি ভুট্টার জমি এতে দেখা হয়েছে। খরা সহনশীল ভুট্টায় গড় ফলন বেশি হয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা সামান্য কিন্তু ধারাবাহিকভাবে কমেছে। সবচেয়ে বড় সুফল মিলেছে মাঝারি ফলনের জমিতে, সেখানে ফলন বেড়েছে ৪২ শতাংশ; সবচেয়ে কম ও সবচেয়ে বেশি ফলনের জমিতে প্রভাব ছিল কম এবং পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তিকে তাই পুরো ফসলহানির বিমা হিসেবে দেখানো ঠিক নয়; এর কাজ বড় কিন্তু সামলানো যায় এমন চাপে ফলন স্থির রাখা। বাড়ির কাছে ছোট জমিতে যাঁরা যত্ন নিয়ে ভুট্টা করেন, তাঁরাই বেশি সুফল পেয়েছেন। সময়মতো বপন, ফসলের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বৃষ্টি আর উপরি সার দেওয়াও ফলন বাড়িয়েছে।
যে পরিবারে নারী ভুট্টা চাষের প্রধান সিদ্ধান্তদাতা, সেখানে জাতটির প্রভাব আলাদা হয়েছে এমন প্রমাণ মেলেনি। তবে ফসল কীভাবে ব্যবহার হবে তা যেখানে নারী ঠিক করেন, সেসব পরিবারের খাবারে বৈচিত্র্য বেশি ছিল।
সিমিট লিখেছে, ক্ষুদ্র চাষির কাছে ফসলের বেশির ভাগ হারানো আর একটু বেশি ঘরে তোলার পার্থক্য মানে কয়েক সপ্তাহের বাড়তি খাবার। তাদের উপসংহার, খরা প্রতিরোধের ক্ষমতা আসে উন্নত জাত, ফসলের বৈচিত্র্য, সঠিক চাষাবাদ ও জলবায়ু তথ্য মিলিয়ে, কোনো একক সমাধান থেকে নয়।
ছবি: European Union, Copernicus Sentinel-2 imagery (জিম্বাবুয়ের খরা, ২০২৪) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: CIMMYT




মন্তব্য
(০)