ভারতের অভ্যন্তরীণ মৎস্যজীবীদের প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী: ২ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে ১ কোটি ১ লাখ। বঙ্গোপসাগর কর্মসূচি আন্তঃসরকার সংস্থা (বিওবিপি-আইজিও) জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সঙ্গে মিলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ক্ষুদ্র মৎস্য খাত নিয়ে যে দেশভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাতে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে অ্যাগ্রোস্পেকট্রাম। প্রতিবেদন বলছে, মাছ ধরার পরের কাজ ও পরিবারের মজুরিহীন শ্রমে নারীর অবদান ঠিকমতো নথিভুক্ত হয় না; মৎস্য পরিসংখ্যান ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই কাজ দৃশ্যমান করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
দূষণ, আবাসস্থলের অবক্ষয় আর নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়াকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেচসহ নানা কাজে পানির চাহিদার টানাটানি, বন্যা, খরা আর জলাধারের পানি কমে যাওয়া মাছের মজুত ও নির্ভরশীল মানুষের ওপর চাপ বাড়ায়। মাছ ধরার অনিশ্চিত অধিকার ও ইজারাব্যবস্থা এবং মৎস্য, সেচ, বন, রাজস্ব ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের জট নিয়েও নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ক্ষুদ্র অভ্যন্তরীণ মৎস্যবিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। ভারতের মৎস্য বিভাগ বিওবিপি-আইজিওর সঙ্গে মিলে কর্মশালার আয়োজন করে, আয়োজক রাজ্য সরকার; কারিগরি তত্ত্বাবধানে এফএও, বৈজ্ঞানিক সহায়তায় আইসিএআরের মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো। পরিকল্পনাটি হবে টেকসই ক্ষুদ্র মৎস্য খাত নিশ্চিত করতে এফএওর স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা অনুযায়ী।
বঙ্গোপসাগরের দেশগুলোতে এমন জাতীয় পরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দেওয়া বিওবিপি-আইজিওর পরিচালক ড. পি কৃষ্ণান (P Krishnan) বলেন, "জলজ আবাস রক্ষা এবং বৃহত্তর পানিসম্পদ পরিকল্পনায় মৎস্য খাতকে বিবেচনায় রাখা মাছের মজুত ও স্থানীয় জীবিকা টিকিয়ে রাখতে জরুরি।" তাঁর মতে, জীবনধারণের জন্য মাছ ধরা আর অনানুষ্ঠানিক বিপণন পরিসংখ্যানে কম ধরা পড়ে; মৎস্যজীবী, আহরণ ও প্রতিটি জলাশয়ের আরও ভালো তথ্য থাকলে কর্তৃপক্ষ লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে এবং জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তায় খাতটির অবদান মাপতে পারবে।
ছবি: David M. (women fishing for shells on a river shore at Pakhiralay, West Bengal) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: AgroSpectrum





মন্তব্য
(০)