ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ও শেখর ইউনিয়নের দাদুড়িয়া বিলে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব। হাতে পলো, হুসা আর জাল নিয়ে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ বিলে নামেন, দেখতে ভিড় করেন দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরাও। তবে উৎসবের আমেজের মধ্যেও জালে মাছ উঠেছে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম, জানিয়েছে বাংলানিউজ।
চতুল, ধুলপুকুরিয়া, দুর্গাপুর, তেলজুড়ি, নিধিপুর, পোয়াইল, বাবুর বাজার, শেখর, রাজাপুর, কলারণ, মধ্যেরগাতি, ছোলনা, গুনবহা, কুশাডাঙ্গা, লোকনাথ ও আঁধারকোঠাসহ নানা এলাকার মানুষ উৎসবে অংশ নেন। আয়োজকদের একজন, কুশাডাঙ্গা গ্রামের ইমরান শেখ বলেন, পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রাখা আর নতুন প্রজন্মকে বিল-ঝিল, দেশীয় মাছ ও গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতেই এ আয়োজন।
মাছের স্বল্পতায় অনেক শিকারি হতাশ হয়েছেন। গুনবহা গ্রামের মিকাইল বলেন, বাবা-দাদার সময়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পলো ও হুসা নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু আশানুরূপ মাছ পাননি। তাঁর ভাষ্য, চায়না দুয়ারি জালের ব্যাপক ব্যবহারে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে। প্রায় ১৫ বছর পর আলফাডাঙ্গা থেকে দাদুড়িয়া বিলে আসা আজিজুল ফকিরও খালি হাতে ফিরেছেন; তিনিও এই জালের অপরিকল্পিত ব্যবহারকে বড় কারণ মনে করেন।
অন্য শিকারিদের মতে, চায়না দুয়ারি জাল, বিলের ভেতরে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর কাটা এবং কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার দেশীয় প্রজাতির মাছ অনেক কমিয়ে দিয়েছে। দাদুড়িয়া বিলসহ স্থানীয় জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রকৃত অবস্থা জানতে বৈজ্ঞানিক জরিপ দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বোয়ালমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পবিত্র কুমার দাস জানান, দেশীয় মাছের সংকট নিয়ে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো জরিপ নেই। তবে মাছের প্রজনন ও পোনা রক্ষায় সূক্ষ্ম ফাঁসের জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জরুরি। লোকবল সংকটে নিয়মিত অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা চান, প্রশাসন দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, ক্ষতিকর জালের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিক, সঙ্গে নিয়মিত জরিপ ও নজরদারি হোক।
প্রতিবেদন: বাংলানিউজের ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: পলো বাওয়া (প্রতীকী), Sohelchy07 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)