সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পশুর নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় প্রায় ১,২৫০ মেট্রিক টন কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে পশুর চ্যানেলের সুন্দরী কোঠা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। জাহাজের নয়জন কর্মী সাঁতরে পাশের আরেকটি কার্গোতে উঠে প্রাণে বাঁচেন। ডুবে যাওয়া জাহাজের কয়লা নদীতে ছড়ালে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশকর্মীরা।
ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এমভি ফুলবাড়ী, মালিক তানিয়া শিপিং লাইন্স। জাহাজের মাস্টার সুজন মোল্লা জানান, সোমবার সকাল ৭টার দিকে মোংলা বন্দরের হিরণ পয়েন্টে থাকা বিদেশি জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা বোঝাই করে জাহাজটি রওনা হয়; গন্তব্য ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল। সুন্দরী কোঠায় পৌঁছালে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ধাক্কা দিলে কার্গোটি তলিয়ে যায়। জাহাজটি পুরো ডুবে যাওয়ায় কতটা কয়লা নদীতে ছড়িয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস জানান, জায়গাটি সুন্দরবনের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির আওতায়। মঙ্গলবার সকালে বন বিভাগের একটি দল সেখানে পাঠানো হয়েছে, কয়লা ছড়িয়ে বনের ক্ষতি হচ্ছে কি না দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার সময় নদীতে ভাটা ছিল। কয়লা পানিতে মিশে থাকলে জোয়ারের সময় পর্যবেক্ষণ করে তা বোঝা যেতে পারে। বনকর্মীদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও "সুন্দরবন রক্ষায় আমরা"র সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে বারবার কয়লাবোঝাই জাহাজডুবি ঘটছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় পশুর নদীর মাছের দেহে সিসা, তামা ও পারদের মতো ভারী ধাতু সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়েছে বলে উঠে এসেছে, আর কয়লা ও শিল্পদূষণ এর অন্যতম কারণ। জোয়ারের পানিতে কয়লা ছড়ালে বনের জীববৈচিত্র্য ও নদীর জলজ প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন, আর দুর্ঘটনা ঠেকাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিআইডব্লিউটিএর আরও কার্যকর ভূমিকা চান।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, পশুর চ্যানেলের মূল নৌপথ নিরাপদ, নৌযান চলাচল স্বাভাবিক, আর মালিকপক্ষ জাহাজটি উদ্ধারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। মোংলা থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কার্গো প্রতিষ্ঠানের কেউ অভিযোগ বা জিডি করতে আসেননি।
প্রতিবেদন: মনিরুল হায়দার ইকবাল, মোংলা (বাগেরহাট), সমকাল।
ছবি: পশুর নদীতে একটি লাইটার জাহাজ (প্রতীকী), Nazmulhuqrussell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)