ভারতের উত্তর প্রদেশের খরাপ্রবণ বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের মাহোবা জেলার কৃষকেরা এ বছর কম বৃষ্টির জন্য উপযোগী ফসল বুনেছিলেন। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধ জমিতে সেই ফসল পচে গেছে বলে জানিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া।
২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগে মাহোবার কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র কৃষকদের তিল, চীনাবাদাম ও মাষকলাইয়ের মতো কম পানির ফসল বোনার পরামর্শ দেয়। রেকর্ডের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোর কারণে দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা ছিল। আইসিএআর-আটারির আপৎকালীন পরিকল্পনাতেও একই পরামর্শ ছিল। জুনে কৃষি মন্ত্রণালয় সেচ সুবিধা ২৫ শতাংশের কম থাকা ১১১টি উচ্চ অগ্রাধিকারের জেলার তালিকায় মাহোবাকে রাখে।
বর্ষা এসেছিল প্রায় ২০ দিন দেরিতে, মৌসুমের বড় অংশজুড়ে বৃষ্টিও ছিল কম। তারপর আগস্টের শেষে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলার বেশির ভাগ জমি পানির নিচে চলে যায়। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর মাহোবায় বৃষ্টি হয়েছে ১,১২৭ মিলিমিটার, স্বাভাবিক ৫৮৮.৪ মিলিমিটারের চেয়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের লখনউ কার্যালয়ের বিজ্ঞানী অতুল কুমার সিং জানান, উত্তর প্রদেশে ১৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বর্ষার বৃষ্টি হয়েছে। অথচ সারা ভারতে বৃষ্টি হয়েছে ৭৫৯.৪ মিলিমিটার, যা ২০০১ সালের পর চতুর্থ সর্বনিম্ন। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানাসহ পাঁচ রাজ্যে খরা ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
চন্দপুরা গ্রামের কৃষক জয়দেবী বলেন, "জুলাইয়ে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে আমাদের তিল, চীনাবাদাম আর মাষকলাই বেশি বুনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু বন্যায় জমি ডুবে গেল।" আরেক কৃষক সম্পত জানান, অক্টোবরে যে খরিফ ফসল কাটার কথা ছিল, তা পুরোটাই পচে গেছে।
বর্গাচাষি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পেতে বাড়তি বাধা পেরোতে হচ্ছে, কারণ জমির মালিকানা, কাগজপত্র আর দাবি নিষ্পত্তির দেরিই ঠিক করে কে বিমার সহায়তা পাবেন। মৌসুমি পূর্বাভাস আর স্থানীয় আবহাওয়ার ফারাক বাড়তে থাকায় ফসল-পঞ্জিকা ধরে পরিকল্পনা করা কৃষকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)