খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইউটিউবে পটল চাষের ভিডিও দেখে নিজেই চাষ শুরু করে ফলন পাচ্ছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আনোয়ার হোসেন। যে এলাকায় পটলের চাষ প্রায় ছিলই না, সেখানে তাঁর পরীক্ষামূলক আবাদ দেখে আরও কয়েকজন কৃষক এই সবজিতে আগ্রহী হয়েছেন, জানিয়েছে প্রতিদিনের বাংলাদেশ।
আনোয়ার মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়ার বাসিন্দা। ২০২৪ সালে ইউটিউবে পটল চাষের ভিডিও দেখে তিনি নওগাঁ থেকে বারি-১ ও বারি-২ জাতের ১০০টি চারা-কলম আনেন, প্রতিটির দাম পড়ে ১৭ টাকা। ধানের জমিতে মাচা বানিয়ে লাগানো সেই গাছে দুই মাসের মধ্যেই ফলন আসতে শুরু করে।
খরচের হিসাবও দিয়েছেন তিনি। জমি তৈরি, চারা, জৈব সার, বালাইনাশক, হলুদ ফেরোমন ফাঁদ, মাচা আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে ১০ শতক জমিতে প্রথম দফায় খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এরপর প্রতি মাসে পরিচর্যায় লাগে গড়ে ২ হাজার টাকা। ওই জমি থেকে মাসে গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ কেজি পটল উঠছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাটিরাঙ্গায় মাত্র ১ হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে, এ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্য ১০ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও শীতের সবজি বাজারে আসায় দাম নেমে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আনোয়ারের দেখাদেখি চরপাড়ার কৃষক বাচ্চু মিয়া আর ওয়াছু এলাকার আব্দুস ছাত্তার ১০ শতক করে জমিতে পটল লাগিয়েছেন; এখন মাটিরাঙ্গার তিন জায়গায় মোট ৩০ শতকে পটল হচ্ছে। তিনজনের কারোরই নিজের জমি নেই, সবাই বর্গাচাষি। আনোয়ার একরপ্রতি ৮০ হাজার টাকায় জমি নিয়ে এক একরে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও পেঁপেও চাষ করছেন; পাঁচ হাজার কপির চারা লাগিয়েছেন, প্রতিটি কপিতে খরচ পড়ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।
“ব্যতিক্রমী ফসল করার চিন্তা থেকে ইউটিউব ফলো করে পটল চাষ শুরু করি। ভালোই ফলন হয়েছে এখন,” বলেন আনোয়ার। মাটিরাঙ্গা পৌর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা জানান, তাঁকে নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ধানজমিতে মাচা করে পটল আর বর্গা জমিতে মিশ্র ফসল প্রশংসনীয় উদ্যোগ, আর মাটিরাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া শাকসবজির জন্য উপযোগী।
প্রতিবেদন: মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি), প্রতিদিনের বাংলাদেশ।
ছবি: পটল, Engr.Raju / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রতিদিনের বাংলাদেশ





মন্তব্য
(০)