শীতে বাজার ভরে ওঠে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিম, পালংশাক আর মটরশুঁটিতে। কিন্তু রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেশি যাঁদের, তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগে, কোন সবজি খাবেন আর কোনটা এড়াবেন। পুষ্টিবিদ মৌসুমী চৌধুরী দেশ রূপান্তরে লিখেছেন, সবজি বাদ দেওয়ার চেয়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস আর পরিমিত খাওয়াই বেশি জরুরি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইউরিক অ্যাসিড সরাসরি সবজি থেকে তৈরি হয় না; খাবারের পিউরিন নামের উপাদান ভেঙে শরীরে তৈরি হয়। পালংশাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি, অ্যাসপারাগাস ও মাশরুমে পিউরিন তুলনামূলক বেশি, তবে এগুলো খেলেই ইউরিক অ্যাসিড বাড়বে, এ ধারণা ঠিক নয়। তাঁর লেখায় বলা হয়েছে, গবেষণায় পিউরিনসমৃদ্ধ অধিকাংশ সবজি গেঁটে বাতের (গাউট) ঝুঁকি বাড়ায় না বলে দেখা গেছে।
শীতের সবজি ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশের ভালো উৎস, হজমে আর ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে একটি সবজি বেশি না খেয়ে প্রতিদিন নানা রকম সবজি খাওয়া ভালো; হঠাৎ বেশি আঁশ খেলে কারও পেট ফাঁপতে পারে। কিডনির রোগ থাকলে পটাশিয়ামসমৃদ্ধ সবজির ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
তাঁর পরামর্শ: চিকিৎসকের নিষেধ না থাকলে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে কিডনি দিয়ে ইউরিক অ্যাসিড বের হতে সুবিধা হয়। কলিজা, মগজ, বেশি লাল মাংস, কিছু সামুদ্রিক মাছ আর মাংসের নির্যাস কম খান। কোমল পানীয়, বেশি চিনির জুস ও ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলুন। শীতের সবজি, কম চর্বির দুধ ও পরিমিত ফল খাদ্যতালিকায় রাখুন।
নিয়মিত হাঁটা আর স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখাও জরুরি, তবে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা বা অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকা ঠিক নয়। শুধু খাবার বদলে সবার ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে আসে না; প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ লাগতে পারে, নিজে থেকে ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা যাবে না।
সতর্কতা হিসেবে তিনি লিখেছেন, হঠাৎ কোনো গাঁট লাল, গরম ও ফোলা হলে, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর থাকলে, দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে; এটি গেঁটে বাত ছাড়াও গাঁটের সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে।
লেখক: মৌসুমী চৌধুরী, পুষ্টিবিদ, দেশ রূপান্তর।
ছবি: সিলেটের কানাইঘাটে শীতের সবজি নিয়ে বাজারের পথে কৃষক, Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)