খবর থেকে বিনোদন, ভ্রমণ থেকে পণ্যের রিভিউ, সবই এখন ১৫ থেকে ৬০ সেকেন্ডের রিল বা শর্ট ভিডিওতে। ভিডিও দেখতে শুধু প্লে বোতাম চাপলেই চলে, কিন্তু পড়তে লাগে বাড়তি মনোযোগ, কল্পনা আর নোটিফিকেশনের টান এড়ানোর ক্ষমতা। এ নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার কথা তুলে ধরেছে কলকাতার এই সময়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ‘সাইকোলজিক্যাল বুলেটিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ৭১টি ট্রায়াল ও ৯৮ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতিরিক্ত শর্ট ভিডিও দেখার অভ্যাস প্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণ দুই দলেরই মনোসংযোগ আর কগনিটিভ পারফরম্যান্স কমার সঙ্গে যুক্ত।
২০২৬ সালে ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ প্রকাশিত আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা ক্লাস চলার সময় গড়ে প্রায় ৬৪ বার ফোন দেখে। তবে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এসব গবেষণা নিশ্চিত কার্যকারণ প্রমাণ করে না; যাঁদের মনোযোগ আগে থেকেই কম, তাঁরাই হয়তো শর্ট ভিডিওর দিকে বেশি ঝোঁকেন।
অন্যদিকে কেমব্রিজ, ওয়ারউইক ও ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় ১০ হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরীর তথ্যে দেখা গেছে, যে শিশুরা ছোটবেলা থেকে আনন্দের জন্য বই পড়ে, তারা পড়াশোনা আর কগনিটিভ পরীক্ষায় ভালো করে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণগত সমস্যাও কম। বই পড়তে পাঠককে নিজেই কল্পনায় চরিত্র আর পরিবেশ গড়তে হয়, ভিডিওর মতো দ্রুত এগোনোর তাড়া থাকে না।
পড়ার অভ্যাস ফেরাতে খুব বড় বা জটিল বই দিয়ে শুরু করার দরকার নেই, পরামর্শ প্রতিবেদনের। কয়েক সেকেন্ড পরপর নতুন তথ্যে অভ্যস্ত হলে মিটিং, ক্লাস বা গভীর আলোচনায় মন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তাই অল্প অল্প করে পড়া শুরু করাই কাজের।
লিখেছেন এই সময়-এর অঙ্কিতা দাশ।
ছবি: বই পড়ছেন এক ব্যক্তি, Christopher Michel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)