এবার যারা ভেজা অবস্থায় দানাশস্য তুলেছেন, গুদামে ক্ষতিকর বিষ ওক্রাটক্সিন এ (Ochratoxin A বা ওটিএ) যেন তৈরি না হয় সে জন্য তাদের সংরক্ষণে বাড়তি যত্ন নিতে হবে, পরামর্শ দিয়েছে কানাডার শস্য রপ্তানি বাজার সুরক্ষার কর্মসূচি কিপ ইট ক্লিন (Keep it Clean), জানিয়েছে ফার্মস ডটকম।
মাঠের রোগের মতো নয়, ওটিএ তৈরি হয় ফসল তোলার পর, গুদামে, যখন আর্দ্রতা আর তাপমাত্রা এই বিষ তৈরিকারী ছত্রাককে বাড়তে দেয়। দেখতে ভালো দানাও দূষিত হতে পারে। বেশি আর্দ্রতা, গুদামের ভেতরে জলীয় বাষ্প জমা, চুঁইয়ে পড়া পানি, নোংরা যন্ত্র আর আগের ফসলের অবশিষ্ট দানা ঝুঁকি বাড়ায়; আর একবার ওটিএ তৈরি হলে তাপ দেওয়া, ভাঙানো বা সাধারণ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে তা দূর হয় না।
প্রথম কাজ, যত দ্রুত সম্ভব দানা নিরাপদ আর্দ্রতায় শুকানো; ভেজা আর শুকনো দানা মেশানো যাবে না, তাতে গুদামে বেশি আর্দ্রতার পকেট তৈরি হয়। এরপর ঠান্ডা রাখা: কম তাপমাত্রায় ছত্রাকের বৃদ্ধি আর আর্দ্রতার চলাচল কমে, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা (অ্যারেশন) দ্রুত ও সমানভাবে দানার তাপ নামায়। আবহাওয়া ঠান্ডা হতে থাকলে সুযোগ পেলেই দানা ঠান্ডা করতে হবে, তাতে জলীয় বাষ্প জমাও কমে।
গুদাম ভরার আগে গুদাম, অগার, কনভেয়ার ও অন্যান্য যন্ত্র ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে, কারণ ধুলা, মাটি আর পুরোনো দানায় ছত্রাক থাকতে পারে। ভরার পর নিয়মিত দেখতে হবে তাপমাত্রার পরিবর্তন, অস্বাভাবিক গন্ধ, আর্দ্রতা বা পচনের লক্ষণ আছে কি না। তাপ বাড়া মানে জৈব কার্যকলাপ শুরু হতে পারে; তখন কিছু দানা সরিয়ে বাতাস চলাচল বাড়ালে সমস্যা ছড়ানো ঠেকানো যায়।
বিষয়টি শুধু পচন ঠেকানোর নয়, দামেরও। ক্রেতারা কড়া মান চান, দূষণ হলে বিক্রি আর আয় দুটোই কমে। আবহাওয়া কৃষকের হাতে নেই, কিন্তু শুকানো, ঠান্ডা রাখা, পরিষ্কার গুদাম আর তদারকি তার হাতে; কঠিন মৌসুমে এগুলোই বিক্রি পর্যন্ত ফসলের মূল্য রক্ষা করে।
ছবি: Steve Wilson / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)