হাইতিতে আগামী বছর তীব্র ক্ষুধা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে ২৮ অক্টোবর জানিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সহিংসতা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বাস্তুচ্যুতি, খারাপ ফলন আর এল নিনোর বাড়তে থাকা প্রভাব একসঙ্গে এই সংকট তৈরি করছে।
সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণিবিন্যাস (আইপিসি)-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৭ সালের মার্চ থেকে জুনে ৬৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে, যা ২০২৬ সালের একই সময়ের চেয়ে পাঁচ লাখের বেশি। তাদের প্রায় ২০ লাখ মানুষ জরুরি (আইপিসি ৪) পর্যায়ের ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে। চলতি বছরের শুরুতেই ডব্লিউএফপি সতর্ক করেছিল, সামান্য যে উন্নতি হয়েছে তা ভঙ্গুর এবং টিকিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা লাগবে।
শহরের পাশাপাশি গ্রামেও অবস্থা খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে জুনে কয়েকটি গ্রামীণ এলাকা সংকট (আইপিসি ৩) থেকে জরুরি (আইপিসি ৪) পর্যায়ে নামতে পারে। এল নিনো একই সঙ্গে খরা ও বন্যা ডেকে আনছে, তাতে এরই মধ্যে ফলন কমছে এবং পরের মৌসুমে রোপণের প্রস্তুতি নিতে কৃষকেরা হিমশিম খাচ্ছেন। সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতির কারণে কৃষকেরা স্থানীয় বাজারে পণ্য পৌঁছাতেও পারছেন না।
১৫ লাখের বেশি হাইতিয়ান ঘরছাড়া। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো কাজ করতে বা নিজেদের খাবার ফলাতে পারছে না, বেশির ভাগই গাদাগাদি আর অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছে। হাইতিতে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর লরেন ল্যান্ডিস (Lauren Landis) বলেন, "অনেকে কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি।"
এ বছর ডব্লিউএফপি সরকারের সঙ্গে মিলে ২৬ লাখ হাইতিয়ানকে জরুরি খাদ্য ও নগদ সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ আর স্কুলের খাবার দিয়েছে; স্কুলের খাবারের ৭৪ শতাংশ তৈরি হয় স্থানীয় কৃষকের ফলানো খাদ্যে। সংস্থাটি আগাম নগদ সহায়তা দিচ্ছে, পানি ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো ও গ্রামীণ সড়ক মেরামত করছে, আর খরা বা অতিবৃষ্টিতে ফসলহানির বিরুদ্ধে কৃষকদের জন্য ক্ষুদ্র বিমা চালু রেখেছে।
ল্যান্ডিস বলেন, এই বহুমুখী সংকট মনে করিয়ে দেয় যে শুধু জীবন বাঁচানো জরুরি খাদ্য সহায়তাই যথেষ্ট নয়, ধাক্কা সামলাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। মার্চ পর্যন্ত এসব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ডব্লিউএফপির জরুরি ভিত্তিতে ৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
ছবি: Alex Proimos / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডব্লিউএফপি





মন্তব্য
(০)