সাপের দংশনে বিষক্রিয়া সরকারি পরিসংখ্যানে যা দেখা যায়, তার চেয়ে অনেক বড় জনস্বাস্থ্য সংকট, বলছেন এর বৈশ্বিক চিত্র তৈরি করা গবেষকেরা। ডাউন টু আর্থে প্রকাশিত লেখায় লিভারপুল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের স্বাস্থ্য তথ্যবিজ্ঞানী দিলীপা এদিরিবীরাসহ লেখকেরা জানান, বিষধর সাপ আছে এমন দেশগুলোর অর্ধেকের বেশি সাপের কামড়ের কোনো হিসাবই রাখে না।
আফ্রিকার সাহারার দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামে অনেক আক্রান্ত মানুষ ক্লিনিক থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে থাকেন, যানবাহন পান না, কিংবা ওঝা-কবিরাজের কাছে যান; ফলে তাঁদের ঘটনা জাতীয় পরিসংখ্যানে ওঠে না। গবেষক দলটি ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রকাশিত ৭৯টি দেশের গবেষণা পর্যালোচনা করে তাদের ২০০৮ সালের বৈশ্বিক হিসাব হালনাগাদ করেছে, আর ফাঁকগুলো পূরণ করেছে জলবায়ু, সাপের প্রজাতির সংখ্যা ও আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রকৃত তথ্য মেলানো একটি ভূ-পরিসংখ্যান মডেলে।
তাঁদের হিসাবে বছরে অন্তত ২১ লাখ মানুষ সাপের বিষে আক্রান্ত হন, সংখ্যাটি ৭০ লাখ পর্যন্তও হতে পারে; কম নথিভুক্তি বিবেচনায় নিলে মৃত্যু বছরে ২ লাখ ৭৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ১৩ হাজার। প্রতিবছর ৮ লাখের বেশি বেঁচে যাওয়া মানুষ অঙ্গহানিসহ স্থায়ী প্রতিবন্ধিতা নিয়ে থাকেন, যা পরিবারের আয় কমায় এবং কৃষক পরিবারকে আরও দারিদ্র্যে ঠেলে দেয়।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর ৪৫ শতাংশই সাহারার দক্ষিণের আফ্রিকায়, সেখানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় তিন গুণ। ঘন গ্রামীণ জনবসতি ও মাঠে কাজের ঝুঁকির কারণে নাইজেরিয়া, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো ও ইথিওপিয়ায় বোঝা সবচেয়ে বেশি। কৃষিশ্রমিকেরা জুতা ছাড়া খোলা মাঠে কাজ করেন, রাতে অন্ধকার পথে হাঁটেন, আর কামড়ের পর দূরের হাসপাতাল ও ব্যয়বহুল বা অনুপলব্ধ অ্যান্টিভেনমের মুখে পড়েন; এশিয়ার কিছু অংশেও একই অবস্থা, লিখেছেন গবেষকেরা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে সাপের কামড়ে মৃত্যু ও প্রতিবন্ধিতা অর্ধেকে নামানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে। লেখকদের মতে, উচ্চঝুঁকির এলাকা চিহ্নিত করলে সরকার প্রয়োজনের জায়গায় অ্যান্টিভেনম মজুত করতে, ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং দ্রুত রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা উন্নত করতে পারবে।
ছবি: Tanmay Haldar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)