সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পিটুলি মাংসের সুনাম এখন দেশজুড়ে। জেলার সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এটি বিশেষ আকর্ষণ; দূর থেকে আসা আত্মীয়স্বজনও নিমন্ত্রণে পিটুলি খাওয়ানোর আবদার করেন, জানিয়েছে ইত্তেফাক। কবে থেকে এর প্রচলন, তা কেউ নিশ্চিত বলতে পারেন না; প্রবীণেরাও বাপ-দাদার কাছে এর গল্প শুনেছেন।
সিরাজগঞ্জ সদরের ছোনগাছা, বাগবাটি ও রতনকান্দি ইউনিয়নসহ পুরো কাজিপুর উপজেলায় পিটুলির চল। সাধারণত এলাকার কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির চল্লিশা, কারও হজযাত্রায় দোয়া কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে আয়োজিত মেজবানিতে এটি রান্না হয়। আয়োজনের গ্রামের নারী-পুরুষ-শিশুসহ প্রায় সব বাড়ির মানুষ নিমন্ত্রণ পান, আর গ্রামের লোকেরাই বিনা পারিশ্রমিকে রান্নায় হাত লাগান। আগে কলাপাতায় পরিবেশন হতো, এখন প্লাস্টিকের থালা-গ্লাসের ব্যবহার বেড়েছে।
পিটুলির প্রধান উপকরণ গরু বা মহিষের মাংস আর আতপ চালের গুঁড়া। প্রস্তুতি শুরু হয় আগের দিন বিকেলে: বাবুর্চির নির্দেশে মাংস টুকরা হয়, একাধিক চুলা তৈরি করে মধ্যরাত থেকে রান্না শুরু হয়, আর একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মাংসের সঙ্গে চালের গুঁড়া মেশানো হয়।
বাবুর্চি হোসেন আলী বলেন, পিটুলিতে টাটকা আতপ চালের গুঁড়া লাগে, চাল ঢেঁকিতে গুঁড়া করতে হয়, আর মাংসে দেওয়ার সময় গুঁড়া যেন ভেজা থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়; এমন কিছু কৌশল মেনেই কাজিপুরের পিটুলির সুনাম।
ফজরের নামাজের পর থেকে খাওয়ানো শুরু হয়, সাধারণত সকাল ১০টার মধ্যে শেষ। ভাত, পিটুলি আর ঘোল পরিবেশনে আলাদা লোক থাকেন; ভাত ও পিটুলি দেওয়া হয় একবারই, শেষে ঘোল। পিপুলবাড়িয়ার আবুল হোসেন (৭০) বলেন, পিটুলি না খাওয়ালে মেহমানদারি যেন অপূর্ণ থেকে যায়। কাজিপুরের মাইজবাড়ির আয়নাল হক জানান, ঢাকার অনেক অনুষ্ঠানেও সিরাজগঞ্জ থেকে বাবুর্চি নিয়ে পিটুলি রান্না করানো হয়।
প্রতিবেদনটি করেছেন ইত্তেফাকের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি মাহমুদুল কবীর।
সূত্র: ইত্তেফাক




মন্তব্য
(০)