দক্ষিণ আফ্রিকার সিবাহলে সিফো কৈশোরে বাবার চাওয়া খামারের কাজ যতটা পারতেন এড়িয়ে চলতেন। আজ ইস্টার্ন কেপে তাঁর প্রতিষ্ঠান ইমবেউ ইয়েথেম্বা অ্যাগ্রিকালচারাল প্রজেক্টস রাস্তার ফেরিওয়ালা, সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা চেইন স্পারের জন্য বাঁধাকপি ফলায়, জানিয়েছে ফুড ফর মজানসি।
লুসিকিসিকিতে জন্ম, মথাথায় বেড়ে ওঠা সিফো প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৯ সালে ভোডাকমে স্টোর ম্যানেজার হন। তাঁর ভাষায়, করপোরেট চাকরিই ছিল স্বপ্ন, চাষাবাদ কখনো পরিকল্পনায় ছিল না। দীর্ঘ সময় চাকরি খোঁজার মধ্যে পরিবার, বিশেষ করে বাবা মুতুজেলি সিফো, তাঁকে নিজের ব্যবসা শুরু করতে বলেন।
২০২৪ সালে পরিবারের ১২ হেক্টর আবাদি জমির একটি অংশে নিজের সঞ্চয় দিয়ে চারা ও প্রাথমিক উপকরণ কিনে তিনি শুরু করেন। বাবার খামারে ১২ বছর কাজ করা স্থানীয় অভিজ্ঞ চাষি নমসা ও এমজে এমফিরি তাঁকে বিনা মূল্যে চারা দেন। মাত্র ৩০০ বাঁধাকপির চারা দিয়ে শুরু করে তিনি ধাপে ধাপে চারার দূরত্ব, সেচ, সার ও বালাই দমন শেখেন।
২০২৫ সালের ১০ জুন ভয়াবহ বন্যায় তাঁর ফসল ও বেড়া নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আবার শুরু করেন, এবার ৩০০ থেকে ৫,০০০ চারায়, মূলত মেগা স্টার ও গ্রিন করোনেট জাতের। অনিয়মিত আবহাওয়া, মাটির অবক্ষয় ও বালাইয়ের ঝুঁকি সামলাতে ইউনিসায় জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি নিয়ে পড়াশোনাও শুরু করেন। তিনি বলেন, অনেক কিছু হারিয়েছেন, কিন্তু নতুন করে শুরু করা তাঁকে ঘুরে দাঁড়াতে শিখিয়েছে।
২০২৬ সালে তিনি ‘আশার বীজ’ অর্থের নামে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করেন। একজন স্থায়ী সহকর্মী মুসা কাজ করেন, প্রয়োজনে এমফিরিরা সাহায্য করেন, আর ব্যস্ত মৌসুমে পাঁচজন পর্যন্ত খণ্ডকালীন শ্রমিক নেন। ফেরিওয়ালাদের কাছে বিক্রি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাঁর ফসলে তাঁদেরও রোজগার হয়। পরের লক্ষ্য অবকাঠামোর জন্য পুঁজি, ভালো পানি ব্যবস্থাপনা ও নিজস্ব যন্ত্রপাতি, যাতে ১২ হেক্টরের আরও বেশি জমিতে চাষ করা যায়।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিসাকানিয়া ভেন্না (Lisakanya Venna)।
ছবি: anthrovik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)