কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বেগুনখেতে ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে, বেগুন স্বাভাবিক আকার হারিয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা নানা বালাইনাশক ছিটিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না, ফলে ভালো ফলনের মৌসুমেও তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে এবার প্রায় ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টরে আগাম বেগুন। নদীবেষ্টিত জেলার চরাঞ্চলে বেগুনের আবাদ বেশি, আর এখানকার কৃষকের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী সবজি।
মাঠে কোথাও গাছে ঝুলছে পরিপক্ব বেগুন, কোথাও নতুন ফল এসেছে। তার মধ্যেই কিছু গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেছে। আক্রান্ত গাছের বেগুনের মান নষ্ট হচ্ছে, কমছে বিক্রিযোগ্য ফলের পরিমাণ। কৃষকেরা বলছেন, গাছ ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত আর কীভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন; একের পর এক ওষুধ ছিটানোয় খরচই বাড়ছে।
সদর উপজেলার গুলকুর এলাকার কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, তাঁর জমিসহ প্রায় সবার বেগুনখেতে একই অবস্থা, কিন্তু এই সংকটে কৃষি বিভাগের লোকজনকে পাশে পাচ্ছেন না। একই এলাকার আব্দুল আউয়াল ২২ শতক জমিতে বেগুন চাষে ২২ হাজার টাকা খরচ করেছেন, এর মধ্যে ১০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছেন। তিনি জানান, হঠাৎ গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে, বেগুনও কুঁকড়ে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, খেত আক্রান্ত হওয়ার পরও রোগ শনাক্ত ও প্রতিকারের পরামর্শ দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। যাঁরা ভালো দামের আশায় বেশি জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন, তাঁদের দুশ্চিন্তাই সবচেয়ে বেশি; জমি তৈরি, চারা, সার, সেচ ও বালাইনাশকে এরই মধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাহিদা আফরিন বলেন, বেগুনগাছে হলুদ মোজাইক ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত গাছ শনাক্ত করে রোগের বিস্তার ঠেকানো জরুরি। আক্রান্ত ডালপালা কেটে ফেলতে হবে, বেশি আক্রান্ত হলে পুরো গাছ উপড়ে ফেলতে হবে। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের কুড়িগ্রাম সংবাদদাতার।
ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)