ফারাক্কা বাঁধ থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার ভাটিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মার স্রোত ও ভাঙন বেড়েছে। গত তিন দিনে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের নামোজগন্নাথপুর ও বাদশাহপাড়া গ্রামে অন্তত সাড়ে তিনশ বসতবাড়ি ও শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে ও স্কুলমাঠে আশ্রয় নিয়েছেন। একাত্তর টিভির চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি এ খবর দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর ভাঙন হলেও এবার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা কয়েক গুণ বেড়েছে। সদর উপজেলার নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জের নামোজগন্নাথপুর, ফিল্ডের হাট, বাদশাহপাড়া, বিসরশিয়া ও মনোহরপুরে ভাঙন চলছে। চলতি বছর দুই উপজেলার এসব এলাকায় অন্তত ছয় শতাধিক বাড়িঘর ও বিপুল ফসলি জমি পদ্মায় গেছে; কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও একটি বিজিবি ক্যাম্প হুমকিতে। ভাঙন শুরু হলে মসজিদের মাইকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
নামোজগন্নাথপুরের ৭০ বছরের মোস্তফা আলি জানান, গত ১০ বছরে চারবার ভিটেমাটি হারিয়ে শেষে পাকা বাড়ি করেছিলেন; গত তিন দিনে সেই বাড়ি আর ১৪ বিঘা জমি নদীতে গেছে। ফিল্ডের হাটের রাজমিস্ত্রি মেরাজুল ইসলাম সন্তানদের নিয়ে এখন একটি স্কুলমাঠে আছেন। স্থানীয় রাজু আলী ও রুবেল আলীর অভিযোগ, অন্য বছর জরুরি অবস্থায় অন্তত জিও ব্যাগ ফেলা হলেও এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো তৎপরতা নেই; তাঁরা ত্রাণ নয়, দ্রুত টেকসই নদীরক্ষা বাঁধ চান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সীমান্তবর্তী পয়েন্টগুলোতে তীব্র ভাঙনের কথা স্বীকার করে বলেন, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ৭৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্রও সম্পন্ন হয়েছে। নদীতে পানি বেশি থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি; পানি কমলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ শুরু হবে।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাধ্যমতো ত্রাণ দেওয়া হয়েছে; ভিটেমাটি হারানোদের পুনর্বাসন নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।
সূত্র: একাত্তর টিভি




মন্তব্য
(০)