কার্তিকের শুরুতে পাবনার গ্রামীণ খাল-বিল আর জলাশয়ে ফুটে আছে লাল ও সাদা শাপলা। ভোরের আলোয় ফুলগুলো পাপড়ি মেলে, দুপুরে রোদ বাড়লে আবার বুজে যায়; এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন বিলপারে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। দেশ রূপান্তরের পাবনা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে এ চিত্র এসেছে।
সুজানগরের গাজনার বিল, চাটমোহরের ডিকশির বিল, চলনবিল এবং পাবনা শহর ও গ্রামের ছোট পুকুর-ডোবায় এখন লাল ও সাদা শাপলার দেখা মিলছে। অনেকে লাল শাপলাকে রক্তকমল নামেও ডাকেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষার পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বিলে শাপলা ফুটতে শুরু করে।
শাপলা দেশের জাতীয় ফুল, আবার সবজি হিসেবেও খাওয়া হয়। ভাঙ্গুড়ার বাসিন্দা মাসুম জানান, শাপলার ডাঁটা ভালো সবজি; আগে গ্রামের নারীরা শাপলার ঢ্যাপ থেকে দানা বের করে রোদে শুকিয়ে খই ভাজতেন, আর দরিদ্র পরিবার চালের বদলে ঢ্যাপের ভাত রান্না করে খেত।
তবে শাপলা জন্মানোর জায়গা দিন দিন কমছে। সুজানগরের বাসিন্দা সালমান জানান, আগে গাজনার বিলসহ নানা বিলে প্রচুর শাপলা দেখা যেত; এখন বিলে আগের মতো পানি আসে না, জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক দেওয়া হয়, শাপলার মূলও তুলে ফেলা হয়। পাবনা সদরের পৈলানপুরের সোহান হোসেন জানান, শহরে শাপলা তেমন চোখে পড়ে না, তবে তাঁদের এলাকার পরিত্যক্ত ডোবায় লাল শাপলা দেখা যায়।
পরিবেশবাদীদের মতে, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মাছ চাষ ও জলজ পরিবেশ ধ্বংসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে; জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় এসব জলাশয় সংরক্ষণ জরুরি।
ছবি: Md. Masum Parves / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)