চোতরাপাতা বা বিছুটির নাম অনেকেরই জানা, কিন্তু গাছটি খেয়াল করে দেখা মানুষ কম। প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন ২০১৯ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছটি চিনেছিলেন লম্বা ছড়ার মতো গুচ্ছবদ্ধ ফুল দেখে; ওপরের পাতা দেখে প্রথমে কদমগাছ ভেবেছিলেন। পাশের কৃষি জাদুঘরের পুকুরে দেখেছেন আরেকটি কম চেনা জলজ ফুল।
বিছুটির ইংরেজি নাম স্টিংগিং ট্রি বা ডেভিলস নেটল, বৈজ্ঞানিক নাম Dendrocnide sinuata। এটি বড় গুল্ম বা ছোট বৃক্ষ, বাকল সাদা ও মসৃণ; নরম সাদাটে ডালপালা হুলযুক্ত রোমে ঢাকা। হুল ত্বকে লাগলে তীব্র চুলকানি, চাকা চাকা দাগ, জ্বর ও কাঁপুনি হয় এবং লেখকের বর্ণনায় উপসর্গ ১০ দিন থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ফিরে ফিরে আসতে পারে।
পাতা ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়, ফুল ফোটে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতার ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনে ঝরনা বা জলধারার পাশে বনের নিচের স্তরে এটি প্রধান গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। কাণ্ডের ছাল থেকে দড়ির উপযোগী শক্ত আঁশ মেলে, তা দিয়ে মোটা কাপড়ও বোনা হয়; আসামের উত্তর লখিমপুরে এর ফুল সবজি হিসেবে রান্না হয়।
দ্বিতীয় উদ্ভিদটি জলজ পিকেরেলউইড (Pontederia cordata)। বাংলা উদ্ভিদবিদ্যার বইয়ে এর নাম না পেয়ে লেখক "জল নীলাম্বরী" নামটি প্রস্তাব করেছেন, যদিও কোথাও কোথাও বড়নুখা ফুলও এই নামে পরিচিত। তিনি ফুলটি প্রথম দেখেন ২০১৩ সালে গাজীপুরের "আরণ্যক" বাগানবাড়িতে, পরে ২০২৪ সালে বাকৃবি জাদুঘরের পুকুরে বেশ কয়েকটি।
গাছটি আংশিক প্লাবিত বা জলমগ্ন জায়গায় জন্মায় এবং মাটিতে অক্সিজেন কম থাকলেও টিকে থাকে। বর্ষায় প্লাবন আর শীতে পানি নেমে যাওয়া এলাকায় এটি স্বাভাবিকভাবে বাঁচে। আদি আবাসে এর ফুল ফোটে গ্রীষ্মের শেষে, কিন্তু বাংলাদেশে প্রায় সারা বছর।
নীল ফুলের গায়ে হলুদ চিহ্ন থাকে, যা পরাগায়নের জন্য মৌমাছিকে টানে। বীজ পাকলে মঞ্জরিদণ্ড বেঁকে ফল ও বীজকে পানিতে ডুবিয়ে দেয়; বীজ কিছুদিন সুপ্ত থেকে ছয় থেকে আট সপ্তাহে অঙ্কুরিত হয়। শখের লিলিপুলে ফুলটি এখনো তেমন ছড়ায়নি বলে লেখকের পর্যবেক্ষণ।
ছবি: Sixflashphoto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)