সংসার চালাতে বাড়ির আঙিনায় লাগানো কুমড়ো গাছের ফুল তুলে বিক্রি করেন মাগুরার জাহেদা বেগম। একদিন পরপর মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে বসেন তিনি, আর তাতে আয় হয় পাঁচ থেকে ছয় শ টাকা। গ্রামের নানা বয়সের মানুষ এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমড়ো ফুল বিক্রি করেন।
কুমড়ো লতায় পুরুষ ও স্ত্রী দুই ধরনের ফুল ফোটে, ফল ধরে শুধু স্ত্রী ফুলে। তাই পুরুষ ফুল বেছে তুলে বিক্রি করা হয়, এতে গাছের ফলনও কমে না। জাহেদা বেগম বলেন, মৌসুমে কুমড়ো ফুল আর কুমড়ো বেচেই তাঁর সংসার চলে; পুরুষ ফুল বেছে বেছে কলেজ রোডের পাশে বসে বিক্রি করেন।
আরেক বিক্রেতা রাশেদ মোল্লা জানান, অন্য সবজির সঙ্গে তিনি কুমড়ো ফুলও বেচেন, কুমড়োর মৌসুম তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের সময়।
উজ্জ্বল হলুদ এই ফুল ভেজে, সেদ্ধ করে বা বেসনে ডুবিয়ে বড়া বানিয়ে খাওয়া হয়; গৃহিণীরা বলছেন, ফুল বেটে বড়া করেও খাওয়া যায়। ক্রেতা শাফয়েত জামিল জানান, তাঁর ছেলেমেয়েরা কুমড়ো ফুলের চপ আর বড়া খুব পছন্দ করে; গ্রামে বাড়ির পাশেই হতো, শহরে থাকায় এখন কিনতে হয়। তাঁর জানামতে চাহিদা বাড়ায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে কুমড়ো চাষ করে ফুল বিক্রি করছেন।
গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. অনন্যা শাঁখারী দিনাজপুর টিভিকে জানান, কুমড়ো ফুলে ভিটামিন সি ও আঁশ আছে, ক্যালরি আর চর্বি কম; তাঁর মতে এটি রোগ প্রতিরোধে ও হজমে সহায়ক একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।
ছবি: Focusmycamera / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)