বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবসের দ্বিতীয় পর্যায়ের আন্তর্জাতিক উদ্যাপন ছিল ১০ অক্টোবর, এ বছরের প্রতিপাদ্য 'Every Bird Counts: Your Observations Matter!', অর্থাৎ প্রতিটি পাখি এবং প্রতিটি পর্যবেক্ষণই গুরুত্বপূর্ণ। এ উপলক্ষে ডেইলি বাংলাদেশে প্রকাশিত কলামে সাংবাদিক, কলাম লেখক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন লিখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জলাভূমি ধ্বংস, বন উজাড়, দূষণ ও অবৈধ শিকারের চাপে পরিযায়ী পাখির অস্তিত্ব হুমকিতে। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালের ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত State of the World's Birds প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বলেছেন, বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ পরিযায়ী পাখির প্রজাতির সংখ্যা কমছে এবং প্রতি নয়টি পরিযায়ী প্রজাতির একটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। সামুদ্রিক আবাস, বন ও উপকূলীয় জলাভূমিনির্ভর পাখিরা বেশি সংকটে।
তাঁর মতে, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের হাওর, বিল, নদী, চর ও উপকূলীয় জলাভূমি অতিথি পাখির বিশ্রাম, খাবার ও আশ্রয়ের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। জলাভূমি ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন, নদী-খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং উপকূলের পরিবর্তনে এসব আবাস হারিয়ে যাচ্ছে; একটি বিরতিস্থল ধ্বংস হলে পুরো পরিযায়নপথেই তার প্রভাব পড়ে। দূষণ ও অতিরিক্ত কীটনাশকে জলজ পোকামাকড়, ছোট মাছ, শামুকের মতো খাবারও কমে যায়।
শিকার নিয়ে লেখক লিখেছেন, হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসা পাখিরা এ দেশের জলাভূমিতেও নিরাপদ নয়; মাংসের চাহিদা, বিক্রির লোভ বা বিনোদনের জন্য ফাঁদ, জাল ও বিষটোপে পাখি মারা হয়। দেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আইনি কাঠামো আছে, কিন্তু তার কার্যকারিতা নির্ভর করে প্রয়োগ, নজরদারি ও ব্যবস্থার ওপর; পাশাপাশি পাখি শিকারকে বিনোদন বা সহজ আয় ভাবার মনোভাবও বদলাতে হবে।
সমাধান হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিতে নিয়মিত পাখি গণনা, প্রজাতিভিত্তিক তথ্যভান্ডার, আবাসের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, সংরক্ষিত এলাকায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষার্থী ও পাখিপ্রেমীদের পর্যবেক্ষণে যুক্ত করার কথা বলেছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলাভূমি, বন, নদী ও উপকূলের গুরুত্ব বিবেচনা এবং ব্যক্তিপর্যায়ে শিকার না করা, অবৈধ কেনাবেচায় না জড়ানো ও জলাভূমিতে ময়লা না ফেলার আহ্বানও জানিয়েছেন।
ছবি: Sujoncristi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ



মন্তব্য
(০)