খাদ্যনিরাপত্তা এখন শুধু যথেষ্ট খাবার উৎপাদন নয়, পুষ্টিকর খাবার উৎপাদনের প্রশ্ন, কৃষি জাগরণে প্রকাশিত এক কলামে এ যুক্তি দিয়েছেন ড. সুরেশ কুমার চৌধুরী (Suresh Kumar Chaudhari)। মতামত লেখকের নিজের।
লেখকের মতে, বিশ্বে ২০০ কোটির বেশি মানুষ এখনো অণুপুষ্টির অভাব বা 'লুকানো ক্ষুধা'য় ভুগছেন, আর ভারতে জিংক, আয়রন, আয়োডিন ও সেলেনিয়ামের ঘাটতি বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ। তাঁর মূল কথা মাটি-উদ্ভিদ-পশু-মানুষের শৃঙ্খল: পুষ্টিহীন মাটিতে পুষ্টিহীন ফসল, তাতে খাবার আর পশুখাদ্যের মানও কমে।
তিনি ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) ৬১৫টি জেলার ২ লাখ ৪২ হাজারের বেশি মাটির নমুনা বিশ্লেষণের তথ্য দিয়েছেন, যেখানে জিংকের ঘাটতি ৩৬.৫ শতাংশ, বোরন ২৩.২, আয়রন ১২.৮, কপার ৭.১ ও ম্যাঙ্গানিজ ৪.২ শতাংশ নমুনায়। সরকারের মৃত্তিকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির প্রায় ৩ কোটি নমুনার তথ্যে ভারতের প্রায় ৩৯ শতাংশ মাটিতে জিংকের ঘাটতি, যা দেশটির সবচেয়ে বিস্তৃত অণুপুষ্টির ঘাটতি।
লেখকের ব্যাখ্যায় সমস্যাটি দশকের পর দশক ধরে জমেছে: সার ব্যবহার নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামকেন্দ্রিক থেকেছে, আর টানা চাষে মাটি থেকে অণুপুষ্টি চলে গেছে কিন্তু পূরণ হয়নি। মাটির উচ্চ পিএইচ ও কম জৈব কার্বন বাকি পুষ্টিও গাছের নাগালের বাইরে রাখে। পশুও ভোগে, কারণ জিংক, কপার, সেলেনিয়াম ও আয়োডিনের ঘাটতিওয়ালা খাদ্য পশুর বৃদ্ধি, প্রজনন ও রোগ প্রতিরোধে প্রভাব ফেলে।
সমাধানের শুরু তিনি দেখেন মাটি পরীক্ষাভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনায়, সঙ্গে জিংক সালফেট, ফেরাস সালফেট, বোরাক্স ও নতুন অণুপুষ্টি পণ্যের সঠিক ব্যবহার। আইসিএআর-এর গবেষণায় মাটি ও পাতায় অণুপুষ্টি প্রয়োগে ফলন সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ বেড়েছে এবং দানায় জিংক ও আয়রন বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন; আইসিএআর দানাশস্য, ডাল, তেলবীজ, ফল ও সবজির ২০৬টি পুষ্টিসমৃদ্ধ (বায়োফর্টিফায়েড) জাত অবমুক্ত করেছে।
লেখকের উপসংহার, কৃষিকে কেবল ক্যালরির হিসাব ছাড়িয়ে পুষ্টিতে সমান জোর দিতে হবে; সুষম সার, জৈব সম্পদের পুনর্ব্যবহার আর বায়োফর্টিফিকেশন ভারতের 'ন্যাশনাল ওয়ান হেলথ মিশন'-এর সঙ্গেও মেলে, যা মানুষ, পশু, উদ্ভিদ ও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে এক সূত্রে দেখে।
সূত্র: কৃষি জাগরণ



মন্তব্য
(০)