বাংলাদেশে ইকোপার্ক বললে বনের ভেতর হাঁটার পথ, কৃত্রিম লেক, নৌকা আর ওয়াচ টাওয়ারের ছবিই চোখে ভাসে। কিন্তু সারাবাংলায় প্রকাশিত এক মতামত কলামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিদ শুভ্র মনে করিয়ে দিয়েছেন, কাগজে-কলমে ইকোপার্কের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য বিনোদন নয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। বন অধিদপ্তরের সংজ্ঞায় ইকোপার্ক এমন সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি না করে সীমিত বিনোদনের সুযোগ থাকে।
লেখক তাঁর যুক্তির পক্ষে কয়েকটি তথ্য দিয়েছেন। ডব্লিউডব্লিউএফের ২০২৪ সালের লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট অনুযায়ী ১৯৭০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে পর্যবেক্ষিত মেরুদণ্ডী বন্যপ্রাণীর জনসংখ্যা গড়ে ৭৩ শতাংশ কমেছে, স্বাদুপানির প্রাণীর ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ। দেশে বন অধিদপ্তরের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে থাকা বনভূমি প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার হেক্টর, দেশের আয়তনের সাড়ে দশ শতাংশের মতো। বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএনের ২০১৪-১৫ সালের জরিপে গত একশ বছরে অন্তত ৩১ প্রজাতি দেশ থেকে হারিয়ে গেছে; ৫৬ প্রজাতি মহাবিপন্ন, ১৮১টি বিপন্ন ও ১৫৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।
তাঁর অভিযোগ, ইকোপার্ক ঘোষণার পর মনোযোগ চলে যায় সীমানাপ্রাচীর, ফটক, টিকিট কাউন্টার, লেক খনন আর নৌবিহারে; আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, প্রজাতি জরিপ বা দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ পিছিয়ে থাকে। দর্শনার্থীর চাপ, শব্দ ও প্লাস্টিক বন্যপ্রাণীকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করতে পারে, আর লেক বা রাস্তা বনকে টুকরো করে বাস্তুতন্ত্রের সংযোগ নষ্ট করে।
সমাধান হিসেবে তিনি প্রস্তাব করেছেন: ইকোপার্ক ঘোষণার আগে ও পরে বৈজ্ঞানিক জীববৈচিত্র্য জরিপ বাধ্যতামূলক করা, অবকাঠামোর অনুমোদনে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিজ্ঞানীদের মত বাধ্যতামূলক করা, শুরু থেকেই স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও প্রথাগত অধিকার বিবেচনায় নেওয়া, তহবিলের কত অংশ সংরক্ষণে আর কত অংশ অবকাঠামোয় যাচ্ছে তার স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ, এবং দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ।
তাঁর ভাষায়, ঝুলন্ত সেতু বা কৃত্রিম লেক কয়েক ঘণ্টার আনন্দ দেয়, কিন্তু একটি প্রজাতিকে বিলুপ্তি থেকে বাঁচানো প্রজন্মের পর প্রজন্মের সম্পদ রক্ষা। লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের বন। ছবি: Anwarul85 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সারাবাংলা





মন্তব্য
(০)