জ্বালানির দাম বাড়ানোর বদলে সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়ার পক্ষে প্রথম আলোয় কলাম লিখেছেন অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম। তাঁর প্রস্তাবের কেন্দ্রে আছে চা-বাগানের যে জমিতে চা হয় না, সেখানে সোলার প্যানেল বসানো।
লেখক জানান, সিলেট বিভাগে ১৬৮টি চা-বাগান আছে। বাংলাদেশ চা সংসদের কর্তাব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বাগানের ৫০ থেকে ৫২ শতাংশ জমিতে কারিগরিভাবে চা উৎপাদন সম্ভব; বাকি জমির বড় অংশে সরাসরি রোদ বেশি পড়ায় চা-গাছ বাঁচে না। চা সংসদ সরকারের কাছে দাবি করেছে, লিজ-দলিল সংশোধন করে এসব জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দিলে দুই-তিন বছরের মধ্যে গ্রিডে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব। এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
কলামে লেখক তুলনা টেনেছেন: পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ছয় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, ভারতে ৭০ হাজার মেগাওয়াট পেরিয়েছে, অথচ বাংলাদেশে এখনো ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটের কম। জমির স্বল্পতাকে বাধা মনে করা নীতিনির্ধারকদের ধারণা ভুল বলে তিনি মনে করেন।
চা-বাগানের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা জনবসতিহীন চর, সমুদ্র উপকূল এবং নদী ও খালের দুই পাড়েও সোলার প্যানেল বসানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। চরে জনবসতি গড়ে ওঠার আগেই সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের বড় প্রকল্প করলে ভূমি অধিগ্রহণের ঝামেলা থাকবে না এবং সাবমেরিন কেব্লে বিদ্যুৎ মূল ভূখণ্ডে আনা যাবে বলে তাঁর মত।
লেখক মনে করেন, ২২ সেপ্টেম্বর জ্বালানির দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি আবার বাড়াতে পারে, এবং সৌরবিদ্যুতে যথাযথ অগ্রাধিকার দিলে আমদানি করা তেল ও এলএনজির দামের ওঠানামার অজুহাতে এমন মূল্যবৃদ্ধির দরকার পড়ত না। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Sabila Enun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0); সিলেটের একটি চা-বাগান
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)