আশির দশকে আগ্রাসী চিংড়ি বাণিজ্যে ধ্বংস হয়ে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ, কক্সবাজারের চকরিয়া সুন্দরবন। প্রথম আলোয় প্রকাশিত কলামে লেখক ও সাংবাদিক, প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক খলিলউল্লাহ্ লিখেছেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এ বন ফিরিয়ে আনা জরুরি। মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক জানিয়েছেন, পঞ্চাশের দশকে বনটি প্রায় ২১ হাজার ১০২ একরজুড়ে ছিল, পরে ১৮ হাজার ৫০৮ একর সংরক্ষিত বন ঘোষণা হয়। ১৯৭৭ সালে ইজারার প্রক্রিয়া শুরু হয়, ১৯৮৫ সালের চিংড়ি চাষ নীতিমালায় চাষযোগ্য বনভূমি ইজারার বিধান বন ধ্বংস ত্বরান্বিত করে। এখন সেখানে টিকে আছে একটিমাত্র সুন্দরীগাছ। ১৯২৬ সালে জেমস কোওয়ান এ বনে ৫৩ প্রজাতির উদ্ভিদের তালিকা করেছিলেন।
আশার কথাও আছে। লেখক প্রথম আলোর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, বদরখালী চ্যানেলে ২৫ একরে একটি এনজিওর লাগানো ৮০ হাজার বাইনগাছের টিকে থাকার হার সন্তোষজনক, জুনে আরও ২৫ একরে ৪০ হাজার বাইন রোপণ হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের বরাতে তিনি লিখেছেন, ইজারার পরও বন বিভাগের নামে চার হাজার একর বনভূমি রেকর্ডভুক্ত আছে, প্রথম লক্ষ্য সেগুলো ফিরিয়ে আনা।
লেখকের মতে, চিংড়ি চাষ আর ম্যানগ্রোভ একসঙ্গে থাকতে পারে, যার নাম সিলভোফিশারি। আলোচকদের বরাতে তিনি লিখেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে চিংড়ির মৃত্যুহার ৬৪ শতাংশ, ঘেরে ম্যানগ্রোভ রাখলে তা ৫০ শতাংশে নামে; খুলনার পাইকগাছায় ১০০ হেক্টরের পরীক্ষায় এমন ফল মিলেছে। প্রধান বন সংরক্ষক এ পদ্ধতি প্রাকৃতিক সুন্দরবনের বাইরে করার পরামর্শ দিয়েছেন, আর চকরিয়াকে লেখক তার উপযুক্ত জায়গা মনে করেন।
লেখক হিসাব দিয়েছেন, প্রতি হেক্টরে ন্যূনতম ১৫০ টন কার্বন ধরলে প্রায় ৮ হাজার ৪৯৮ হেক্টরের চকরিয়া সুন্দরবন ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ টন কার্বন ধরে রাখতে পারত। গবেষকদের বরাতে তাঁর দাবি, বনটি থাকলে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এত প্রাণহানি হতো না।
চ্যালেঞ্জের তালিকায় তিনি রেখেছেন ইজারাদারদের অনীহা, পোল্ডার ও ঘেরের বাঁধে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধা, লবণ ও চিংড়ি চাষে মাটির অবক্ষয়, চিংড়ির আন্তর্জাতিক বাজার এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ীর শিল্পায়নে গাছ কাটা। তাঁর মূল যুক্তি: আগে বনের বাস্তুতন্ত্র ফেরাতে হবে, তাহলে ম্যানগ্রোভ নিজেই ফিরে আসতে পারে, আর এর জন্য সবচেয়ে বড় দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
ছবি: Ashis Kumar Datta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); চর কুকরি মুকরির উপকূলীয় বন, প্রতীকী ছবি
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)