সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৭°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৮০%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চিংড়িঘেরে হারানো চকরিয়া সুন্দরবন ফেরানো কেন জরুরি: খলিলউল্লাহ্‌র কলাম

একসময় ২১ হাজার একরের বেশি জুড়ে থাকা চকরিয়া সুন্দরবনে এখন একটিমাত্র সুন্দরীগাছ; লেখক ও সাংবাদিক খলিলউল্লাহ্‌ লিখেছেন, ম্যানগ্রোভ রেখে চিংড়ি চাষ (সিলভোফিশারি) সম্ভব, বন ফেরাতে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

চিংড়িঘেরে হারানো চকরিয়া সুন্দরবন ফেরানো কেন জরুরি: খলিলউল্লাহ্‌র কলাম
মতামত

আশির দশকে আগ্রাসী চিংড়ি বাণিজ্যে ধ্বংস হয়ে যায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ, কক্সবাজারের চকরিয়া সুন্দরবন। প্রথম আলোয় প্রকাশিত কলামে লেখক ও সাংবাদিক, প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক খলিলউল্লাহ্‌ লিখেছেন, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এ বন ফিরিয়ে আনা জরুরি। মতামত লেখকের নিজস্ব।

লেখক জানিয়েছেন, পঞ্চাশের দশকে বনটি প্রায় ২১ হাজার ১০২ একরজুড়ে ছিল, পরে ১৮ হাজার ৫০৮ একর সংরক্ষিত বন ঘোষণা হয়। ১৯৭৭ সালে ইজারার প্রক্রিয়া শুরু হয়, ১৯৮৫ সালের চিংড়ি চাষ নীতিমালায় চাষযোগ্য বনভূমি ইজারার বিধান বন ধ্বংস ত্বরান্বিত করে। এখন সেখানে টিকে আছে একটিমাত্র সুন্দরীগাছ। ১৯২৬ সালে জেমস কোওয়ান এ বনে ৫৩ প্রজাতির উদ্ভিদের তালিকা করেছিলেন।

আশার কথাও আছে। লেখক প্রথম আলোর প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, বদরখালী চ্যানেলে ২৫ একরে একটি এনজিওর লাগানো ৮০ হাজার বাইনগাছের টিকে থাকার হার সন্তোষজনক, জুনে আরও ২৫ একরে ৪০ হাজার বাইন রোপণ হয়েছে। পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের বরাতে তিনি লিখেছেন, ইজারার পরও বন বিভাগের নামে চার হাজার একর বনভূমি রেকর্ডভুক্ত আছে, প্রথম লক্ষ্য সেগুলো ফিরিয়ে আনা।

লেখকের মতে, চিংড়ি চাষ আর ম্যানগ্রোভ একসঙ্গে থাকতে পারে, যার নাম সিলভোফিশারি। আলোচকদের বরাতে তিনি লিখেছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে চিংড়ির মৃত্যুহার ৬৪ শতাংশ, ঘেরে ম্যানগ্রোভ রাখলে তা ৫০ শতাংশে নামে; খুলনার পাইকগাছায় ১০০ হেক্টরের পরীক্ষায় এমন ফল মিলেছে। প্রধান বন সংরক্ষক এ পদ্ধতি প্রাকৃতিক সুন্দরবনের বাইরে করার পরামর্শ দিয়েছেন, আর চকরিয়াকে লেখক তার উপযুক্ত জায়গা মনে করেন।

লেখক হিসাব দিয়েছেন, প্রতি হেক্টরে ন্যূনতম ১৫০ টন কার্বন ধরলে প্রায় ৮ হাজার ৪৯৮ হেক্টরের চকরিয়া সুন্দরবন ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ টন কার্বন ধরে রাখতে পারত। গবেষকদের বরাতে তাঁর দাবি, বনটি থাকলে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে এত প্রাণহানি হতো না।

চ্যালেঞ্জের তালিকায় তিনি রেখেছেন ইজারাদারদের অনীহা, পোল্ডার ও ঘেরের বাঁধে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ বাধা, লবণ ও চিংড়ি চাষে মাটির অবক্ষয়, চিংড়ির আন্তর্জাতিক বাজার এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ীর শিল্পায়নে গাছ কাটা। তাঁর মূল যুক্তি: আগে বনের বাস্তুতন্ত্র ফেরাতে হবে, তাহলে ম্যানগ্রোভ নিজেই ফিরে আসতে পারে, আর এর জন্য সবচেয়ে বড় দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

ছবি: Ashis Kumar Datta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); চর কুকরি মুকরির উপকূলীয় বন, প্রতীকী ছবি

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

গাছ লাগানোর উৎসব হয়, বাঁচানোর হিসাব হয় না: এক শিক্ষার্থীর কলাম

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মুহিবুল হাসান রাফি লিখেছেন, বৃক্ষরোপণের সাফল্য মাপা উচিত রোপিত চারার সংখ্যায় নয়, এক, তিন ও পাঁচ বছর পর কতটি গাছ বেঁচে আছে তাতে, এবং সেই হিসাব প্রকাশ করা উচিত।

জাগো নিউজ ২৪১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

আমদানি করা ফলের চড়া দামে পাত থেকে হারাচ্ছে পুষ্টি: ড. মতিউর রহমানের কলাম

গবেষক ও উন্নয়নকর্মী ড. মতিউর রহমান লিখেছেন, আমদানি করা ফল মধ্যবিত্তের কেনাকাটার তালিকা থেকে সরে যাচ্ছে; শুল্ক কাঠামো, বিনিময় হার আর পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান মিলে পুষ্টিকর খাবার বিলাসপণ্য হয়ে উঠছে।

জাগো নিউজ ২৪১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

জলবায়ু সংকট মনেরও সংকট: সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অধ্যাপক-অভিভাবকের ভাবনা

ভারতের টেরি স্কুল অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের অধ্যাপক শ্রুতি শর্মা এক কলামে লিখেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চয়তা কেড়ে নিচ্ছে, এর মানসিক বোঝা সবচেয়ে বেশি পড়ছে কম সামর্থ্যের মানুষের ওপর, আর জলবায়ু পরিকল্পনায় মনের সহনশীলতাকেও জায়গা দিতে হবে।

ডাউন টু আর্থ১০ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)